অভিযোগ, পর্যটকদের গাড়িচালকের জামার কলার চেপে ধরে লরির স্টিয়ারিংয়ে বসে পড়েন লরিচালক। এরপর প্রচণ্ড গতিতে লরি চালাতে শুরু করেন তিনি। লরির বাইরে ঝুলতে ঝুলতেই প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করেন ওই গাড়িচালক।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 December 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পর্যটকদের গাড়িতে ধাক্কা, সেখান থেকেই শুরু। মুহূর্তে তা রূপ নেয় রীতিমতো দুঃস্বপ্নে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার (Bishnupur) মড়ার এক নম্বর ক্যাম্প এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক লরির সঙ্গে পর্যটকদের গাড়ির সংঘর্ষ (Reckless lorry) ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থেকে চারচাকার গাড়িতে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন একদল পর্যটক। ঝাড়খণ্ডের দেওঘর ঘুরে দিঘার পথে ফেরার সময় বিষ্ণুপুরের মড়ার ১ নম্বর ক্যাম্পের সামনে রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় পিছন দিক থেকে আসা লোহার রডবোঝাই একটি লরি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে।
ধাক্কা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়। অভিযোগ, পর্যটকদের গাড়িচালকের জামার কলার চেপে ধরে লরির স্টিয়ারিংয়ে বসে পড়েন লরিচালক। এরপর প্রচণ্ড গতিতে লরি চালাতে শুরু করেন তিনি। লরির বাইরে ঝুলতে ঝুলতেই প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করেন ওই গাড়িচালক। গুরুতর জখম হন পর্যটকদের গাড়িচালক।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মানুষজন ধাওয়া করে লরিটিকে আটক করেন। উত্তেজিত জনতার হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হন লরিচালক। ঘটনাস্থলে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ পৌঁছলে তাঁদের সঙ্গেও বচসায় জড়ায় জনতা। অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশকর্মীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লরি ও দুই চালককেই উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পর্যটক অজিতকুমার দে বলেন, “আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। লরিটাই ধাক্কা মারে। কথা বলতে গেলেই লরিচালক খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আমাদের চালকের জামার কলার ধরে লরি চালাতে শুরু করেন।” তাঁর দাবি, গাড়িচালকের দু’টি পায়ের আঘাত গুরুতর।
অন্য দিকে স্থানীয় বাসিন্দা আসগর বায়েনের অভিযোগ, “জাতীয় সড়কে পুলিশের নজরদারি ঢিলেঢালা বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে কড়া নজরদারি প্রয়োজন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।