দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি আর্থিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে করোনা অতিমহামারীর প্রভাব থেকে মুক্ত হবে ভারতের অর্থনীতি। তখন তার বিকাশ শুরু হবে। শুক্রবার এমনই জানালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, চলতি আর্থিক বছরে সামগ্রিকভাবে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির বিকাশ কমবে ৯.৫ শতাংশ। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠক বসেছিল। তার সিদ্ধান্তগুলি জানানো হয়েছে শুক্রবার।
২০১৬ সালে মনিটারি পলিসি কমিটি গড়ে তোলা হয়। গত সপ্তাহেই কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মনিটারি পলিসি কমিটির তিনজনকে তখনও নিয়োগ করা হয়নি। কমিটিতে ছ’জন সদস্য থাকেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে নিয়োগ করা হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বাইরে থেকে। এই বহিরাগত তিন সদস্যের মেয়াদ ফুরিয়েছে গত মাসে। গত সপ্তাহ অবধি তাঁদের জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। নিয়মমতো মনিটারি কমিটির বৈঠকে অন্তত চারজন সদস্যকে উপস্থিত থাকতে হয়। এখন বৈঠক হলে চারজন উপস্থিত হতে পারবেন না। সেজন্যই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে মনিটারি কমিটির নতুন তিন সদস্যের নাম ঘোষণা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাঁরা হলেন শশাঙ্ক ভিদে, অসীমা গয়াল এবং জয়ন্ত বর্মা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মনিটারি কমিটির নতুন সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ চার বছর।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর জানিয়েছেন, মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে স্থির হয়েছে, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হবে। অর্থাৎ তা চার শতাংশই থাকবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্যান্য ব্যাঙ্ককে যে সুদে ধার দেয়, তাকে বলে রেপো রেট। অন্যদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে যে সুদে ধার নেয়, তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট। সেই রেটও আগের মতোই ৩.৩৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে শক্তিকান্ত দাস বলেন, কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েকটি সেক্টর ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিকাশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা পরিষ্কার ইঙ্গিত পাচ্ছি, প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির যে সংকোচন দেখা গিয়েছিল, তা এখন অতীতের বিষয় হয়ে উঠেছে।
করোনা সংকট সম্পর্কে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেন, "অন্ধকারে আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। দেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা কমেছে। মানুষ আগে আতঙ্কিত ছিল। এখন আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। সবাই আশাবাদী হয়ে উঠেছে।"
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে শক্তিকান্ত দাস বলেন, সেপ্টেম্বরে তা কমবে না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে।