ফের একগুচ্ছ ঘোষণা আরবিআইয়ের, আরও বাড়ল মোরাটোরিয়াম! সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের কতটা সুবিধা, অসুবিধাই বা কী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের উপর আরও তিন মাসের জন্য মোরাটোরিয়াম দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আরবিআই-এর গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। এর আগেও ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধে তিন মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ফলে আজ, শুক্রবার
শেষ আপডেট: 22 May 2020 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের উপর আরও তিন মাসের জন্য মোরাটোরিয়াম দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আরবিআই-এর গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। এর আগেও ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধে তিন মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ফলে আজ, শুক্রবারের নতুন ঘোষণার জেরে সেই মেয়াদ দাঁড়াল ৬ মাস। এখন প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের বা ঋণগ্রহীতাদের কী বা কতটা সুবিধা হবে?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর ফলে ক
্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যা অনেকটাই কম হবে। কারণ সমস্ত বাণিজ্যক ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের মধ্যে রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক, স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক ও লোকাল এরিয়া ব্যাঙ্কও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক, এনবিএফসি (হাউজিং ফিনান্স কোম্পানি ও মাইক্রো ফিনান্স ইন্সটিটিউশন)-কেও মানতে হবে এই শীর্ষ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত। সর্বভারতীয় ফাইনান্স কোম্পানিগুলিকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
এদিন শক্তিকান্ত দাস বলেন, ২০২০-২১ সালে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী থাকবে। তবে এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয় অংশে সেই হার কিছুটা হলেও উর্ধ্বমুখী হবে। আজ শক্তিকান্ত দাস জানান, এই অবস্থায় আরবিআই-এর সমস্ত পদক্ষেপের মূলে রয়েছে তিনটি উদ্দেশ্য। এক: বাজারের পরিস্থিতির উন্নতি, দুই: বাণিজ্যে অগ্রগতি, তিন: সাধারণের আর্থিক চাপ কমানো।
ফলে সব মিলিয়ে করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়া আমজনতাকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পথেই এগিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। শুধু তাই নয়, শক্তিকান্তের কথার ইঙ্গিতে স্পষ্ট, দেশের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজন হলে আরবিআই-এর আর্থিক নীতিকে আরও মানবিক করে তোলা হবে আগামী দিনে।
রিভার্স রেপো রেটও ৪০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছে এদিন। ব্যাঙ্কগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখলে যে পরিমাণ সুদ পায় তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। তা কমানোর অর্থ হল, রিজার্ভ ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখতে ব্যাঙ্কগুলোকে নিরুৎসাহিত করা। ব্যাঙ্কগুলি যাতে আর্থিক নিরাপত্তার রক্ষণশীলতা ছেড়ে বাজারে আরও বেশি ঋণ দিতে উৎসাহী হয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই যে পদক্ষেপ করেছে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন শক্তিকান্ত দাস। মানুষের মধ্যে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলিও সেই পরিবেশ তৈরি করছে।
তবে একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তা হল, এখন ছ'মাস ইএমআই না দিতে হলেও পরে কিন্তু অতিরিক্ত সুদ-সমেত ফেরত দিতে হবে ঋণের পুরো টাকাটাই। মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ কালে সুদের পরিমাণ মকুব করেনি আরবিআই। তাই একান্ত হাতে টাকা না থাকলে তবেই এই মোরাটোরিয়াম নিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ আখেরে পরে বেশি টাকা গুনতে হবে গ্রাহকদেরই।