
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 22 April 2025 22:15
প্রীতি সাহা
শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee) ও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় (divorce case) নয়া মোড়।
গত আট বছর ধরে নিম্ন আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে কলকাতার প্রাক্তন মহা নাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee) ও তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) মধ্যে। আগামী চার মাসের মধ্যে ওই মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আসানুদ্দিন আমানুল্লা এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ।
এদিন টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “উনি তো বলে বেড়াচ্ছিলেন বিশ বছর ধরে মামলা ঝুলিয়ে রাখবেন। সেটা আর চলবে না। ইনিয়ে বিনিয়ে মামলা ঝুলিয়ে রাখা যে চলবে না তা সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে। চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।” শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “আমি আশাবাদী যে সুবিচার পাব। সর্বোচ্চ আদালতের উপর আমার আস্থা রয়েছে”।
আবার রত্না চট্টোপাধ্যায় দ্য ওয়ালকে বলেন, "নিম্ন আদালতে আমার পাঁচজন সাক্ষীর বয়ান নিতে দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টও সেটা বহাল রেখেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এটা অন্যায়। তাই সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিলাম। কোর্ট বলেছে, এই পাঁচজন সাক্ষীর বয়ান নিতে হবে। অগস্টের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।"
শোভন-রত্নার বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে ছবিটা প্রথম থেকেই পরিষ্কার। রত্না চট্টোপাধ্যায়ের থেকে দ্রুত ডিভোর্স পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী শোভন। তবে রত্না ধারাবাহিক ভাবে বলেছিলেন, যে তিনি কোনওভাবেই ডিভোর্স দেবেন না। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এ ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন কৌতূহলের বিষয় রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সেই সব সাক্ষী কারা?
রত্না জানান, পাঁচজনের মধ্যে তাঁর দুজন ভাসুর রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিজের দাদা, এছাড়াও নিজের এক দাদা, ভাই ও এক কলিগ রয়েছেন। অর্থাৎ ডিভোর্স মামলায় রত্নার হয়ে এবার আদালতে সাক্ষী দেবেন শোভনের নিজের দাদা।
রত্নার কথায়, "শোভনের দাদা তো আমাদের বিয়ের আগে থেকেই আমাদের সম্পর্কের সবটা জানতেন। বিয়ের । যে পাঁচজন সাক্ষীর কথা আমি বলেছি, এরা আমাদের সম্পর্কের শুরু থেকে সবটা জানেন। ফলে ডিভোর্স মামলায় আমার নামে আদালতে যে সব মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে, এরা তার প্রমাণ দিতে পারবেন। ওরা পুরোটাই জানেন, কোথায় আমার দোষ, কোথায় ওনার দোষ। আমি খুশি শীর্ষ আদালত আমার আর্জি মঞ্জুর করেছে।"
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে শোভন চট্টোপাধ্য়ায় অবশ্য বলেন, "আদালতে যে কেউ সাক্ষী দিতে পারে। তাতে কী এসে যায়!"
২০১৭ সাল থেকে চলছে রত্না-শোভনের ডিভোর্স মামলা। সম্প্রতি এই মামলায় শোভনের হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী রত্নার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করেছিলেন কল্যাণ। এবার চার মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হয় কিনা, সেটাই দেখার।