অভিযোগ দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে উঠছে তীব্র প্রশ্ন।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 20:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের রামপুরহাটে (Rampurhat) বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের (Tmc councilor in Birbhum) জামিন আবেদন খারিজ করল (bail rejected)) সিউড়ির জেলা বিচারক। অভিযোগ দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে উঠছে তীব্র প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ অক্টোবর। রামপুরহাট থানায় নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, পুরসভার এক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছেন। যদিও অভিযুক্ত বিবাহিত—এ তথ্য দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখেন বলে অভিযোগ। ওই যুবতীর দাবি, তাঁদের সম্পর্কের সময় একাধিকবার তিনি ধর্ষণের শিকার হন এবং পরবর্তীতে তাঁর গর্ভধারণও ঘটে। ২০২০ সালে সন্তানের জন্ম হয়। এর মাঝেই বিষয়টি জানাজানি হলে নির্যাতিতার স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা শুরু হয়, যা এখনও নিষ্পত্তিহীন।
অভিযোগ দায়েরের পর নানা জটিলতার মধ্যে ৩ নভেম্বর অভিযুক্ত জেলা জজ কোর্টে জামিনের আবেদন জানান। শুনানির দিন ধার্য ছিল ১৩ নভেম্বর। তবে সেদিন অভিযুক্তের আইনজীবী অতিরিক্ত সময় চান। সোমবার ফের শুনানিতে বিচারক স্পষ্ট মন্তব্য করেন—এ ধরনের গুরুতর অভিযোগে বর্তমানে জামিনের কোনও সুযোগ নেই। ফলে আবেদন খারিজ হয়।
এরই মধ্যে নির্যাতিতার ক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মামলার খবর প্রকাশ্যে এলেও অভিযুক্ত এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানা ধরনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। তাঁর কথায়, “পুলিশ আমার ফোন ধরছে না। কাউন্সিলর প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন। অথচ পুলিশ বলছে পাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবেই তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।”
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরদিনই অভিযুক্তকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শহর কমিটির সহ-সভাপতি পদ থেকেও তাঁকে সরানো হয়েছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, “দল কোনওভাবেই এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করে না।”
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গুরুতর অভিযোগের ২০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে ধরতে না পারা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকেই। স্থানীয় মানুষের দাবি, বিরোধীদের হলে এতদিনে পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলত। কিন্তু শাসকদলের ‘প্রভাবশালী’ কাউন্সিলর হওয়ায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন অভিযুক্ত।
ঘটনার তদন্তে জল ঢালছে আদালতের সিদ্ধান্ত। জামিন বাতিল হওয়ায় অভিযুক্তের গ্রেফতার এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল। তবে পুলিশকে আরও দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে, এমনটাই দাবি নির্যাতিতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।