
ছোটবেলার বন্ধুর বাড়িতে বসেই ডাকাতির ছক
শেষ আপডেট: 16 June 2024 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: রানিগঞ্জের সেনকো গোল্ডে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার করা হল আরও একজনকে। অন্ডালের দক্ষিণখণ্ড এলাকা থেকে শশীকান্ত মালি নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে গিরিডি থেকে সুরজ সিং নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মূলচক্রী সোনু সিংয়ের খোঁজ পায় পুলিশ। তাকে আহত অবস্থায় ধানবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোনু ওরফে বিশ্বজিৎ কুমার শাহ আপাতত আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরপরে শশীকান্তকে গ্রেফতার করা হল। রবিবার সকালে তাকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ ১৪ দিন তাকে হেফাজতে নিতে চাইলেও বিচারক শশীকান্তকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শশীকান্তর বাড়ি বিহারের রামগড়ের মালিগড়ায়। বেশ কয়েক বছর আগে, সে বিহার ছেড়ে অন্ডালে চলে আসে। শশীকান্ত ও সোনু ছোটবেলার বন্ধু। শশীকান্তর ফুল ও ফলের রসের ব্যবসা রয়েছে। মাসখানেক আগে সোনু বন্ধু শশীকান্তর অন্ডালের বাড়ি আসে। তারপর তারা দুজনে রানিগঞ্জের সোনার দোকানে ডাকাতির ছক কষে। গোটা এলাকার "রেকি" করে তারা। কোন জায়গা দিয়ে দোকানে ডাকাতি করতে ঢুকবে ও পরে পালিয়ে যাবে সেই সব কিছু আগে থেকে আগাম পরিকল্পনা করেছিল। সবকিছু প্ল্যান করার পরে সোনু বিহার থেকে তার বাকি সঙ্গীদের অন্ডালে ডেকে পাঠায়। তাদের একটি হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ব্লু প্রিন্ট তৈরির সময়ে সোনুর সঙ্গে শশীকান্ত থাকলেও ঘটনার সময়ে সে ছিল না। তবে, পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন, ডাকাতির বখরা শশীকান্তের পাওয়ার কথা ছিল।
এই প্রসঙ্গে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানান, রানিগঞ্জের ডাকাতির ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
রানিগঞ্জ ও আসানসোলের ঘটনার অন্য অভিযুক্তদের ধরতে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের তিনটি দল বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে রয়েছে। দিন তিনেক আগে সোনুর এক ভাই আসানসোল জেলা হাসপাতালে তাকে দেখতে এসেছিল। কিন্তু পুলিশ সেলে ভর্তি থাকা সোনুর সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেয়নি। জানা গিয়েছে, পুলিশ আধিকারিকরা সোনুর ভাইকে তথ্য পেতে জেরাও করেছে।