পুলিশ (Rampurhat Police) সূত্রে খবর ছাত্রীর দেহ তিন টুকরো করে বস্তায় ভরা হয়েছিল। এখনও দেহের নিম্নাংশের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামপুরহাটের (Rampurhat Murder) নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর (School Girl Death) বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়েছে দু'দিন আগেই। তারপর যত দিন যাচ্ছে, নৃশংস ঘটনার একের পর এক জট খুলছে। পুলিশ (Rampurhat Police) সূত্রে খবর ছাত্রীর দেহ তিন টুকরো করে বস্তায় ভরা হয়েছিল। এখনও দেহের নিম্নাংশের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, ছাত্রী খুনে ধৃত শিক্ষকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ছুরি, কাঁচি, ব্যান্ডেজ। পুলিশের অনুমান, দেহ খণ্ড খণ্ড করতে সার্জিকাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এখনও খুনে ব্যবহৃত সেই অস্ত্রের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রায় ২০ দিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার হয় তার পচাগলা দেহাংশ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন স্কুলেরই ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক মনোজ কুমার পাল। বৃহস্পতিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় ক্ষুব্ধ জনতা। মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। পরে এনিয়ে মাঠে নামে বিজেপি। রামপুরহাট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। তৃণমূলের কারও জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে।
এদিকে হস্তক্ষেপ করে মহিলা কমিশনও। শনিবারই তারা রামপুরহাট পৌঁছবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে। এই পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেন খুন করা হল ক্লাস সেভেনের ছাত্রীকে। সত্যিই কি এর নেপথ্যে কোনও রাজনীতি রয়েছে?
পুলিশ জানিয়েছে স্থানীয়দের, বিশেষ করে ছাত্রীর সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মনোজ কুমার পাল নাকি পছন্দ করতেন ওই ছাত্রীকে। বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। বিযের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন করে থাকতে পারেন।
অনেকে বলেছেন, ওই শিক্ষক না কি বারবার ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। উত্ত্যক্ত করতেন যাতায়াতের পথে। অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে দিতেন না। কিন্তু ছাত্রী বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুনের পথ বেছে নেন ওই শিক্ষক।
পরিবার জানিয়েছে, গত ২৮ অগস্ট টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই ছাত্রী। এরপর থেকেই সে আর ফেরেনি। রামপুরহাট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার গভীর রাতে রামপুরহাট থানার কালিডাঙা গ্রামের কাছে জলাজমি থেকে উদ্ধার হয় দেহাংশ।
এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, 'আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েরা এখন বলছে, ওই স্যার প্রায়ই ছাত্রীকে আটকে রাখতেন। বলতেন, বড় হলে তোমাকেই বিয়ে করব। অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে দিতেন না। তবে যে মনোজ স্যারই ২৮ তারিখে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেটা আগে বুঝতে পারিনি।'