কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের মানুষের আবেগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই প্রথম সভার জন্য সামশেরগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু রাহুল গান্ধীই নন, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলায় কংগ্রেসের প্রচারে কার্যত ‘চাঁদের হাট’ বসতে চলেছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 12 April 2026 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) পারদ এখন সপ্তমে। একদিকে ঘাসফুল শিবিরের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের লাগাতার আক্রমণ - এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে এবার দাপটের সঙ্গে প্রবেশ করছে জাতীয় কংগ্রেস (Congress)। এত দিন স্থানীয় স্তরে প্রচার চললেও, এবার আসরে নামছেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। আগামী ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে একটি বিশাল জনসভা করতে আসছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। লক্ষ্য একটাই - হাত শিবিরের ‘তুরুপের তাস’ মুর্শিদাবাদকে কোনওভাবেই হাতছাড়া না করা।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের মানুষের আবেগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই প্রথম সভার জন্য সামশেরগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু রাহুল গান্ধীই নন, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলায় কংগ্রেসের প্রচারে কার্যত ‘চাঁদের হাট’ বসতে চলেছে। ওই দিন থেকে ধারাবাহিকভাবে ময়দানে নামবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ভোটারদের মন জয় করতে দিল্লি থেকে উড়ে আসবেন এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। থাকছেন বিশিষ্ট বক্তা ইমরান প্রতাপগারী। এক লহমায় কেন্দ্রীয় নেতাদের এই ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছে, ছাব্বিশের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে ছাড়তে রাজি নয় হাত শিবির।
মুর্শিদাবাদ বরাবরই কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য গড় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঝিমিয়ে পড়া কর্মী-সমর্থকদের মনে নতুন করে অক্সিজেন জোগাতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার মতো ‘তারকা’ প্রচারকদের ওপরই ভরসা রাখছে এআইসিসি। রাহুল গান্ধীর সভা থেকে কী বার্তা উঠে আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন জেলার রাজনৈতিক কর্মীরা।
কংগ্রেস যখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন বিজেপিও তাদের প্রচারের ঝাপটা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দফায় দফায় রাজ্যে এসে প্রচারের সুর বেঁধে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার প্রচার পর্বে সব মিলিয়ে ৩০টি জনসভা ও জনসংযোগ কর্মসূচি রয়েছে শাহের। প্রধানমন্ত্রী নিজে ১১টি মেগা জনসভা করবেন। পিছিয়ে নেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও, তাঁর ঝুলিতেও রয়েছে ১১টি সভা।
শুধু তাই নয়, ভিন রাজ্যের হেভিওয়েট বিজেপি নেতাদেরও বাংলার লড়াইয়ে নামিয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি রাজ্যে ১৩টি জনসভা করবেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ৯টি সভা করার দায়িত্ব পেয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব - প্রত্যেকেই ৮টি করে সভা করবেন। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক নিতিন নবীন থাকছেন ১০টি সভায়।
একদিকে মোদী-শাহ-যোগীদের ঝোড়ো ব্যাটিং, অন্যদিকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের গড় রক্ষার লড়াই - সব মিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যেন দিল্লির রাজনীতিরই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে উঠেছে বাংলার মাটিতে। দুই জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই টক্করে শেষ পর্যন্ত বাংলার সাধারণ মানুষ কার দিকে পাল্লা ভারী করেন, তা সময়ই বলবে। আপাতত আগামী মঙ্গলবার সামশেরগঞ্জে রাহুলের সভার দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।