
শেষ আপডেট: 26 February 2024 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: মঙ্গলবার পুরুলিয়ায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তবে এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার দিক থেকে এখনও শতযোজন দূরে রয়েছেন আরশা ব্লকের বাইদটাঁড় গ্রামের মানুষ।
অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রত্যন্ত এই গ্রাম। দুয়ারে রেশন, ঘরে ঘরে পানীয় জলের ব্যবস্থা, আবাস যোজনার ঘর সব সুবিধাই রয়েছে কাগজে-কলমে। বাইদটাঁড় গ্রামের মানুষের দুয়ারে এখনও এই সমস্ত পরিষেবা এসে পৌঁছয়নি। পানীয় জল আনতে তাঁদের যেতে হয় আড়াই কিলোমিটার দূরে।
গ্রামবাসীরাই সেখানে গর্ত খুঁড়ে তৈরি করেছেন একটি দাঁড়ি বা চুয়া। সেই চুয়া থেকেই তাঁরা প্রতিদিন গৃহস্থালীর জল সংগ্রহ করেন। ঘরে ঘরে শৌচালয় হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তা কেউই ব্যবহার করেন না। কারণ জল নেই।
আরশা ব্লকের শিরকাবাদ হয়ে অযোধ্যা পাহাড় যাওয়ার রাস্তায় ঘুরে যেতে হয় বাইদটাঁড় গ্রামে। কারণ সেখানে পথ বলতে কিছুই নেই। জমির আল দিয়ে উঁচু-নিচু রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে। এই গ্রাম জনজাতি অধ্যুষিত। এখনও বর্ষার জলের উপর ভরসা করেই চলে সেখানকার চাষাবাদ। যে বছর ঠিকমতো বর্ষা নামে না, সে বছর বন্ধ থাকে চাষাবাদ। তাই গ্রামবাসীদের জীবিকা বলতে জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করা। গোটা এলাকা জুড়ে অনুন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট।
গ্রামের আড়াই কিলোমিটার দূরে রয়েছে স্কুল। রাস্তা না থাকায় গ্রামের ছেলে-মেয়েদের হেঁটেই স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে বাড়ে বিপদ। নদী পেরিয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে স্কুলে সন্তানদের পাঠাতেও ভয় পান বাবা-মায়েরা।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গোটা এলাকায় একটিও নলকূপ বা সরকারি কুয়া নেই। পাহাড়ি পথ দিয়ে আড়াই কিলোমিটার দূরে যেতে হয় পানীয় জল সংগ্রহ করতে। দাঁড়ি বা চুয়া থেকে জল তুলে তা কাপড় দিয়ে ছেঁকে ভরতে হয় হাঁড়ি বালতিতে। তারপরে মাথায় করে ওই চড়াই উতরাই ভেঙে ফিরতে হয় ঘরে।
লখিরাম মুর্মু বলেন, "সরকার থেকে শৌচালয় বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই শৌচালয় ব্যবহার করতে যে জল লাগে, তারই কোনও ব্যবস্থা করেনি। তাই শৌচালায় এমনই পড়ে আছে। ব্যবহার করি না।"
গ্রামের এক মহিলা বাহামণি মুর্মুর কথায়, "জল সংগ্রহ করতে নাকানি-চোবানি খেতে হয়। গরমকালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় জলের জন্য। চুয়ার জল শেষ হলে কখন নীচ থেকে আবার জল উঠবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়।"
শুধু তাই নয় রেশন নিয়ে আসার জন্যও সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে যেতে হয় বাইদটাঁড় গ্রামের বাসিন্দাদের। এখানে এখনও চালু হয়নি দুয়ারে রেশন প্রকল্প। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে কাঁধে তুলে অথবা ডুলিতে চাপিয়ে ওই পাহাড়ি পথ পেরিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে আসতে হয়।
আরশা পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি বাইদটাঁড় গ্রামের এমন পরিস্থিতি কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুতই ওই গ্রামের পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।“
রামজীবন মুর্মু, পাতামণি টুডুদের মতো গ্রামের বৃদ্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৭৭ বছর ধরে তাঁরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে এসেছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবারও প্রশাসন থেকে মিলেছে সেই প্রতিশ্রুতিই।