
ধনঞ্জয়ের মামলায় পুনর্বিচার চেয়ে আন্দোলন
শেষ আপডেট: 15 December 2024 18:46
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: ২০০৪ সাল হেতাল পারেখ ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফাঁসি হয়েছিল ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের। এরপরে পেরিয়ে গেছে কুড়ি বছর। কিন্তু ছাতনা কুলুডিহি নামের পাশে 'ধর্ষকের গ্রাম'-এর তকমাটা আজও মোছেনি। আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে যখন সবর গোটা রাজ্য, সেই সময়ে ধনঞ্জয় মামলার পুনর্বিচার চাইছেন খাতরা মানুষ। তাই বিজেপি নেতা জীবন চক্রবর্তী ও ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ধনঞ্জয় পুনর্বিচার মঞ্চ।
মঞ্চের দাবি, ১৪ বছর ধরে জেলে থাকার ধনঞ্জয়কে যেভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল তা ভারতের ইতিহাসে কোনও দিন ঘটেনি। শুধুমাত্র পারিপারর্শিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলায় ধর্ষণের অভিযুক্তকে ফাঁসি দেওয়া হয়। দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মঞ্চের আহ্বায়ক জীবন চক্রবর্তী বলেন, "আমরা চাই ধনঞ্জয়ের মামলার পুনর্বিচার হোক। কারণ এই মামলায় ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে কোনও পোক্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু মাত্র পারিপারর্শিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই মামলার পুনর্বিচার চেয়ে আমরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচী করেছি। সেখানে বহু মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। জেলায় জেলায় ধনঞ্জয় মামলার পুনর্বিচার চেয়ে আমরা গণস্বাক্ষর নিয়েছি। এতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সারা পাচ্ছি। এরপরেই আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে এই দারবার করব।"
জীবন চক্রবর্তী আরও বলেন, "এই মামলা পুনর্বিচার চাওয়ার জন্য আমাদের তিনটি উদ্দেশে রয়েছে। ধনঞ্জয়ের ঘটনার পর থেকে খাতরা ধর্ষকের এলাকা বলেই রয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়ে ধরে এই চলা এই তকমা আজও মোছেনি। এই এলাকার যুবকরা বাইরে কাজ করতে গেলে তাঁদেরও সন্দেহে চোখে দেখা হয়। ফলে এই তকমা মুছতে মামলার পুনর্বিচার জরুরি। এরই সঙ্গে তথ্যকালীন সরকার যেভাবে চাপ সৃষ্টি করে ধনঞ্জয়ের ফাঁসির জন্য় উঠে পড়ে নেমেছিল তারও বিচার চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনায় যদি ধনঞ্জয় ছাড়াও আরও কেউ দোষী থেকে থাকে তাহলে তাঁকেও সামনে আনতে চাইছি আমরা।"
শুধু জীবন চক্রবর্তী নন, মঞ্চের আরও এক আহ্বায়ক ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর সঙ্গে কথা বলেছিল দ্য ওয়াল। সেখানে চন্দ্রচূড় বলেন, "এই দাবি নিয়ে আমরা কয়েকমাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের দফতরের কাছে চিঠি দিয়েছি। এছাড়াও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছেও এই দাবি রেখেছিলাম। আইনমন্ত্রী আমাদের এবিষয়ে পাশের থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।"
চন্দ্রচূড় গোস্বামীর আরও দাবি, "এই মামলায় যদি কোনও চক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে এর নেপথ্যে কারা কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা দরকার। ধনঞ্জয় এক গরিব পরিবারের ছেলে ছিল। তাকে ফাঁসিয়ে যদি আসল অপরাধী বাইরে থাকে, তাহলে হেতল পারেখও ন্যায় পাননি। ফলে এই মামলা পুনর্বিচার হওয়া উচিত। এই মামলা সমস্ত তথ্য আমরা কাছে রয়েছে। সেই তথ্য নিয়েই আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাব।"
১৯৯০ সালের ৫ মার্চ হেতাল পারেখ হত্যাকাণ্ডে গোটা রাজ্য কেঁপে উঠেছিল। কলকাতায় নিজের বাড়িতেই নৃশংস ভাবে খুন হন ওই তরুণীকে। হেতলদের আবাসনেই নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। মামলা তার নাম জড়িয়েছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর জেলে থাকার পরে ২০০৪ সালে ১৫ অগস্ট তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তবে কুলুডিহি সহ ছাতনার মানুষের দাবি 'ধনঞ্জয় দোষী নয়, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল।'