
অনুব্রত মণ্ডল
শেষ আপডেট: 24 September 2024 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বোলপুর: শাসকদলের অন্দরে অনেকে তাঁকে ভালবেসে বীরভূমের 'বাঘ' বলে ডাকেন।
মঙ্গলবার বীরভূমে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই বাঘের চেহারায় দেখালেন অনুব্রত মণ্ডল। বাড়ির বাইরে অগুণতি মানুষের ভিড়। নিজে এগিয়ে এসে কর্মী, সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করলেন বটে তবে কেষ্টর চৌকাঠে পৌঁছেও দেখা করার ছাড়পত্র পেলেন না রাজ্যের মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী-সহ জেলার একাধিক নেতা।
সূত্রের দাবি, কাদের কাদের ঢুকতে দেওয়া হবে না, সেই তালিকা নাকি আগেই নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন কেষ্ট মণ্ডল! সেই তালিকা.য় যে রাজ্যের মন্ত্রীর নামও থাকতে পারে, তা অবশ্য অনেকেই কল্পনাও করেননি। তবে বাস্তবে সেটাই হওয়ার পর অনুব্রত ঘনিষ্ঠরা বলতে শুরু করেছেন, "দাদা এরকমই। মনে-মুখে সমান। বুকের পাটা আছে, তাই শত্রুকে মুখের ওপর শত্রু বলতে দ্বিধা করেন না!"
অর্থাৎ এলাকায় পা রেখেই অনুব্রত মুখে না বললেও আকার ইঙ্গিতে ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছেন, সুবিধেবাদীরা সাবধান!
বিকাশ, চন্দ্রনাথদের সঙ্গে দেখা না করে কেষ্ট মণ্ডল যেভাবে তাঁদেরকে বাড়ির সামনে থেকে ফেরৎ পাঠিয়েছে তাতে বীরভূম জেলায় শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ, বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সেন পর্ণা ঘোষ-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে এদিন দেখা করেছেন কেষ্ট। পার্টি অফিসে বসে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা ধরে কথাবার্তাও বলেছেন তিনি।
অনুব্রত ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, "দাদা অতীত ভুলে যাননি। বিপদের দিনে কারা পাশে থেকেছেন তাঁদের মনে রেখেছেন। কারা বন্ধু, কারা বন্ধু নয়, এতদিনে জানা হয়ে গিয়েছে দাদার। তাই নিচুপট্টির বাড়িতে অনেক নেতার প্রবেশাধিকার মেলেনি।"
বস্তুত, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহের পাত্র অনুব্রত, একথা সর্বজনবিদিত। ২ বছর পর জেল থেকে ফেরা অনুব্রতর হাতেই যে আগামী দিনে জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হবে, তা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন নেতা, কর্মীদের অনেকেই। তাঁদের মুখে নতুন করে শোনা যাচ্ছে, চড়াম চড়াম, গুড় বাতাসার স্লোগানও। স্বভাবতই অনুব্রতর জেলায় ফেরা এবং চন্দ্রনাথ সিনহা, বিকাশ রায়চৌধুরীর সঙ্গে দেখা না করা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে, বিরোধী নয়, এই মুহূর্তে জেলায় দলের অভ্যন্তরের বেনোজল দূর করাটাই নাকি আশুলক্ষ্য তিহাড় ফেরৎ কেষ্ট মণ্ডলের।