
শেষ আপডেট: 17 January 2024 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: ঝালদা পুরসভা নিয়ে দিনভর চলল নাটক। তলবি সভা বাতিলের নোটিস অস্বীকার করে ও তৃণমূলের হুইপকে উপেক্ষা করে পুরপ্রধান অপসারণের ভোটাভুটি হল পুরসভায়।
এদিনের ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূলের ৫ কাউন্সিলর ও ২ কংগ্রেস কাউন্সিলর। পুরপ্রধান শীলা চট্টোপাধ্যায় সহ ৫ তৃণমূল কাউন্সিলর এদিন পুরসভাতে অনুপস্থিত ছিলেন। পুরপ্রধানকে অপসারণের পক্ষে ভোট পড়েছে ৭ টি। তবে এই ভোট কতটা মান্যতা পাবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
বুধবার, ১৭ জানুয়ারি তলবি সভা ডাকা হয়েছিল। অনেকেই মনে করছিলেন এদিন ভোটাভুটি হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা জট কাটবে। কিন্তু সকালে পুরসভার দেওয়ালে দেখা যায় সভা বাতিলের একটি নোটিস পড়েছে। নোটিসে বলা হইয়েছে আগামী ২৭ তারিখে হবে এই বিশেষ সভা। এদিকে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া হুইপ জারি করেন। সেখানে তিনি তৃণমূল কাউন্সিলরদের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যাঁরা দল বিরোধী কাজ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। যদিও তৃণমূলের নেতার এই হুইপকে উপেক্ষা করেই এদিন পুরসভায় পৌঁছে গেছিলেন তৃণমূলের ৫ কাউন্সিলার। তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেসের ২ কাউন্সিলরও ছিলেন।
কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনের পরে তাঁর ভাইপো সহ ৫ কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে ঝালদা পুরসভায় সমস্যা শুরু হয়। ১২ আসনের এই পুরসভায় আপাতত ১০টি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। বাকি দুটি কংগ্রেসের। পুরপ্রধান পদে রয়েছেন কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শীলা চট্টোপাধ্যায়। গত ২৩ নভেম্বর পুরপ্রধানের অপসারণ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোড়া মামলা হয়।
আদালতের দ্বারস্থ হন তপন কান্দুর স্ত্রী তথা কংগ্রেস কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু ও কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল। একই দাবিতে ৫ তৃণমূল কাউন্সিলরও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলাতেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছিলেন, জেলাশাসকের উপস্থিতিতে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঝালদা পুরসভায় আস্থাভোট করাতে হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তা নিয়ে রিপোর্টও দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। এরপর মামলাটিতে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত শিলাকেই পুরসভার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা।
কিন্তু তার আগেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন শীলা চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি সিনহার নির্দেশকে খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। নির্দেশ দেওয়া হয়, পুরপ্রধানের প্রতি আস্থা না থাকলে পুর-আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এরপরেই শীলা চট্টোপাধ্যায়ের অপসারণ চেয়ে ঝালদা পুরসভার পাঁচ তৃণমূল কাউন্সিলার ও কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলার একত্রিত হয়ে অনাস্থা চিঠিতে সই করে ঝালদা পুরসভা, ঝালদা মহকুমা শাসক ও জেলাশাসককে সেই চিঠি জমা দেন।