
শেষ আপডেট: 10 May 2020 18:30
এখন কোনও ব্যক্তির থেকে নেওয়া নমুনায় যদি এমন অ্যান্টিবডি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলেই বুঝতে হবে সেই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। কারণ ভাইরাসকে আটকাতেই তো তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি। এই অ্যান্টিবডিগুলিকেই যদি চিহ্নিত করে ফেলা যায়, তাহলে বোঝা যাবে সংক্রমণ কী পর্যায়ে রয়েছে। এলাইজা টেস্ট কিটের কাজ হবে সেই অ্যান্টিবডিগুলিকেই খুঁজে খুঁজে বার করা।
এলাইজা অ্যান্টিবডি টেস্ট--এইচআইভি টেস্ট করতে এই এলাইজা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এনএস-ওয়ান অ্যান্টিজেন (এলাইজা ) কিট দিয়ে ডেঙ্গির সংক্রমণ ধরা হয়। এবার কোভিড টেস্টের মতো করে আইজিজি (IgG)এলাইজা টেস্ট কিট বানিয়েছ পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। এই এলাইজা টেস্টে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি দুটোই শনাক্ত করা যায়। নমুনায় অ্যান্টিবডি আছে কিনা পরীক্ষা করতে হলে এই কিটের প্লাস্টিক সারফেসে (পলিস্টাইরিন মাইক্রোটাইটার প্লেট) অ্যান্টিজেন (immobilized) রাখা হয়। তার উপরে স্যাম্পেল দিলে যদি অ্যান্টিবডি থাকে সেগুলো ওই অ্যান্টিজেনের সঙ্গে বিশেষ উপায় জুড়ে যায়। পরের ধাপে মার্কার-যুক্ত সেকেন্ডারি অ্যান্টিবডি দেওয়া হয় ওই প্লেটে। এইসব মিলে একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। যদি নমুনায় অ্যান্টিবডি থাকে তাহলে সেকেন্ডারি অ্যান্টিবডির মার্কার তাকে চিহ্নিত করতে পারবে। সিগন্যাল দিয়ে জানান দেবে নমুনায় অ্যান্টিবডি রয়েছে। রঙের বদল দেখা যাবে টেস্ট কিটে। এনআইভি জানাচ্ছে এলাইজা টেস্ট পদ্ধতিতে কম সময়তেই সঠিকভাবে করোনার সংক্রমণ ধরে দেওয়া যাবে।
বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশেই কোভিড টেস্ট কিট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বায়োটেকনোলজি ফার্ম এসডি বায়োসেন্সর তাদের মানেসরের প্ল্যান্টে ভারতের জন্য র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট (আরটিকে) তৈরি করছে। কোরিয়ান ফার্মের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি অবস্থার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় টেস্ট কিট বানানো শুরু হয়েছে মানেসরের প্ল্যান্টে। আশা করা যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি প্রায় পাঁচ লক্ষ আরটিকে পৌঁছে যাবে দেশের নানা প্রান্তে। দক্ষিণ কোরিয়ার আরও একটি বায়োটেক ফার্ম হিউমাসিস লিমিটেডের সঙ্গেও চুক্তি করেছে ভারত। জানা গেছে, র্যাপিড টেস্ট কিট বানানোর জন্য ভারতের থেকে কাঁচামাল আমদানি করেছে ওই সংস্থা। খুব দ্রুত তারাও টেস্ট কিট তুলে দেবে দেশের হাতে।
এদিকে কোভিড টেস্টের আরও একটা উন্নত পদ্ধতি ‘ক্রিসপার জিন-এডিটিং’টেকনোলজি নিয়ে গবেষণা চলছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এ। তাদেরই ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (আইজিআইবি)-র ল্যাবে বানানো হয়েছে পেপার-স্ট্রিপ টেস্ট কিট। এই টেস্ট কিটে ক্রিসপার জিন-এডিটিং পদ্ধতির ব্যবহার করেছেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী। টেস্ট কিটের নাম রাখা হয়েছে ‘ফেলুদা’। এই টেস্ট কিটের বিপুল উৎপাদনের জন্য সিএসআইআর-আইজিআইবির হাত ধরেছে টাটা সন্স।