'গর্বিত হিন্দু' হিসেবে ঠিক বলেছি! লেখিকাকে কুকুর বলে আক্রমণ করে এমনই দাবি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ডের সময়ে মেয়েরা স্বামীর জন্য রান্না করলে নাকি তারা পরের জন্মে কুকুর হয়ে জন্মায়। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করেছিলেন গুজরাতের ভুজের স্বামী নারায়ণ মন্দিরের পুরোহিত স্বামী কৃষ্ণস্বরূপ দাসজি। এই মন্তব্য ঘিরে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়
শেষ আপডেট: 21 February 2020 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ডের সময়ে মেয়েরা স্বামীর জন্য রান্না করলে নাকি তারা পরের জন্মে কুকুর হয়ে জন্মায়। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করেছিলেন গুজরাতের ভুজের স্বামী নারায়ণ মন্দিরের পুরোহিত স্বামী কৃষ্ণস্বরূপ দাসজি। এই মন্তব্য ঘিরে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে সমস্ত মহলে। কিন্তু তাঁর এই বিকৃত বক্তব্য ঘিরে টুইটারে আরওই নিম্নরুচির একটি মন্তব্য করে বিষয়টিকে রীতিমতো বৈধতা ও ঔচিত্যের সিলমোহর দিয়ে দিলেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গোপালকৃষ্ণ আগরওয়াল। এবার বললেন, তিনি 'গর্বিত হিন্দু' হিসেবে এই মন্তব্য করেছেন।
পুরোহিত স্বামী কৃষ্ণস্বরূপ দাসজির কুকুর-মন্তব্যের পরে টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন লেখিকা শুনেল খুল্লার শ্রফ। ছবিতে দুটি কুকুর রয়েছে। ক্যাপশনে ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, "এই কুকুর দু'টি গত জন্মে মহিলা ছিল, তারা পিরিয়ড চলাকালীন স্বামীর জন্য রান্না করেছিল বলে তাদের এই অবস্থা হয়েছে। দেখুন, ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওরা অনুতপ্ত।"
শুনেলের এই পোস্টে গোপালকৃষ্ণ আগরওয়াল মন্তব্য করেন, "এর মধ্যে কোনটার সঙ্গে আপনি নিজের মিল খুঁজে পান!"
এই মন্তব্য ঘিরে ফের নিন্দার ঝড় বয়ে যায় নেট-দুনিয়ায়। নেটিজেনরা দাবি করেন, কাউকেই এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যায় না। তদুপরি একটি বিশ্রী মন্তব্যকে এভাবে সমর্থন করা যায় না। পিরিয়ডের সময়ে রান্না করার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই, এটা আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।
কিন্তু এসব মানতে মোটেই রাজি নন গোপালকৃষ্ণ। তাঁর মন্তব্য শেয়ার করে যতই নিন্দার ঝড় তুলুন নেটিজেনরা, তাঁর দাবি, তিনি এক জন 'গর্বিত হিন্দু' হিসেবে যা মন্তব্য করেছেন, তার জন্য কোনও ভাবেই অনুতপ্ত নন।
কদিন আগেই গুজরাতের ভুজের সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটে ৬৮ জন ছাত্রীকে লাইন করে দাঁড় করিয়ে খোলানো হয়েছিল অন্তর্বাস। পরীক্ষা করা হয়েছিল তাঁরা ঋতুমতী কেন। অভিযোগ ওঠে, ধর্মীয় রীতি লঙ্ঘন করার কথা বলে ৬৮ জন ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকরা পরীক্ষা করে দেখেন ছাত্রীদের পিরিয়ডস হয়েছে কিনা।
এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে। সেই শোরগোলের রেশ কাটার আগেই ফের বিতর্কে আসে ভুজ। ২০১২ সালে তৈরি হওয়া এই কলেজ ২০১৪ সালে স্থানান্তরিত হয় শ্রী স্বামী নারায়ণ কন্যা মন্দির চত্বরে। মন্দির কর্তৃপক্ষই এই কলেজের দায়িত্বে রয়েছে। আর সেই মন্দিরের এক বর্ষীয়ান পুরোহিতের কথাবার্তা ঘিরেই নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
বছর খানেক আগের একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। সেখানেই বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে স্বামী কৃষ্ণস্বরূপ দাসজিকে। তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, “ঋতুমতী অবস্থায় কোনও মহিলা যদি তাঁর স্বামীর জন্য রান্না করেন তাহলে পরজন্মে কুকুর হয়ে জন্মাবেন তিনি।“ এখানেই শেষ নয়। পিরিয়ডস চলাকালীন মহিলাদের মন্দিরের রান্নাঘরে প্রবেশাধিকার নিয়েও সমস্যা রয়েছে তার। গুজরাতি ভাষায় দেওয়া ওই ভাষণে কৃষ্ণস্বরূপ দাসজি আরও বলেছেন, শাস্ত্রে নাকি এমন নিয়মই লেখা রয়েছে।
কৃষ্ণস্বরূপ দাসজির কথায়, “আমার গুরুরা বলেছিলেন শাস্ত্রের এইসব গোপন তথ্য কাউকে না জানাতে। তবে গত ১০ বছর ধরে এইসব উপদেশ ভক্তদের দিচ্ছি আমি। কারণ আমি না জানালে কেউ বুঝতেই পারবেন না। যে যা ইচ্ছে ভাবতে পারেন, তবে শাস্ত্রে এমনটাই লেখা রয়েছে।“ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “এই অবস্থায় মহিলাদের অনেক কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। প্রবেশ করতে নেই মন্দিরের রান্নাঘরেও। এমনকি ঋতুমতী মহিলাদের হাতের রান্না খেলে পরজন্মে সেই ছেলেরা বলদ হয়ে জন্মাবে। তাই বিয়ের আগে ছেলেদেরও একটু-আধটু রান্না শিখে রাখা উচিত।“