শালতোড়ায় পাথর খাদান খোলার পথে বড় পদক্ষেপ। ১৭টি ব্ল্যাক স্টোন মাইনের ই-অকশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল সরকার।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 16 January 2026 23:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ জানুয়ারি বাঁকুড়ার শালতোড়ায় জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ঘোষণা করেছিলেন কালো পাথরের খাদান খোলা হবে। পরিযায়ীদের রাজ্যে ফেরাতে সেসময় মাস্টারস্ট্রোক খেলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রশাসনিক স্তরে তার বাস্তব রূপ স্পষ্ট হল। শুক্রবার রাজ্য প্রশাসন জানাল, ১৭টি কালো পাথরের খাদান (black stone mine) খুলতে ই-অকশনের (e-auction) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সেই বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই আপলোড করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এই ১৭টি খাদানের হবে ই-অকশন। তা শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যেই যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে। সব ঠিকঠাক চললে খুব দ্রুতই খাদানে খনন কাজ শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশাবাদী তারা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাঁকুড়ার এই এলাকায় খনন কাজ শুরুর সবুজ সঙ্কেত মিলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি শালতোড়ার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সরকারি ১৩৩ একর জমিতে মোট ১৮টি পাথরের খাদান রয়েছে। স্থানীয় খাদান ও ক্রাশার (crusher) পুরোদমে চালু হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সেই সভাতেই অভিষেক বলেন, 'গত দু’মাস ধরেই তিনি ওই খাদানগুলি খোলার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় মানুষের রুজি-রোজগারের কথা মাথায় রেখেই শালতোড়াকেই সভাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।'
ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ১৭টি খাদানের ই-অকশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্য বাড়ছে। যদিও অভিষেকের বক্তব্যে ১৮টি খাদানের কথা বলা হয়েছিল, আপাতত ১৭টি খাদানের জন্যই অকশনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপেই গোটা প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা খাদানগুলি খুললে এলাকার অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়বে। কাজ পাবেন স্থানীয় শ্রমিকরা, লাভবান হবে পরিবহণ ও সংশ্লিষ্ট ছোট ব্যবসাগুলিও। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই খনন কাজ শুরু হবে।
সব মিলিয়ে, শালতোড়া ঘিরে যে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা যে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে আটকে থাকেনি, তারই ইঙ্গিত মিলছে এই ই-অকশন বিজ্ঞপ্তিতে। এখন নজর ১১ ফেব্রুয়ারির দিকে।