
শেষ আপডেট: 7 December 2023 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ফুলবানুর হাতে গুড়ের স্বাদ তেমন খোলতাই হত না। গুড়ের ব্যবসায় ডাহা ক্ষতির মুখে পড়ে ছেড়ে আসা মাজুবির সামনে গিয়েই আবার দাঁড়াতে হয়েছিল মতিকে। অবাক হয়েছিল মাজুবি। রেগে গিয়েছিল, কিন্তু মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারেনি। এবার অবশ্য অমিতাভ বচ্চনের সওদাগর ছবির মতো হাতের জাদু দেখিয়ে গুড় তৈরির উপায়ই নেই। আবহাওয়াই এবার খলনায়ক হয়ে উঠেছে শিউলিদের কাছে। শীত নেই, তাই গুড়ও নেই। বাজারে যে গুড়ের রসগোল্লা বা মিষ্টি এসেছে তার বেশিরভাগই কৃত্রিম স্বাদ আর গন্ধ। আসল গুড়ের স্বাদ এবার অধরাই।
আউশগ্রামের শিউলি সুলতান কারিগর জানান, এবারে রসে তেমন জুত নেই। প্রথম কাট কোনওরকম হলেও দ্বিতীয় কাটের স্বাদ নেই। গন্ধও নেই আগের মতো। ডিসেম্বরেও শীত নেই। রসেরও জুত নেই। সাদা হয়ে যাচ্ছে রস। স্মৃতি হাতড়ে বললেন, “আজ থেকে ৪০ বছর আগে রস কাটতে এসে নানার সঙ্গে দু’বার করে আগুন পোহাতে হত। এখন সে বালাই নেই। ক্রেতারাও তাই বলছেন, এ কেমন গুড়? স্বাদ গন্ধ কোথায় গেল?” নদিয়া জেলা থেকে এসে ১২০০ গাছ লিজ নিয়েছেন। দিতে হবে ১ লাখ টাকা। এখন টাকা তুলবেন কীভাবে, লাভই বা কী হবে সে চিন্তায় কপালে ভাঁজ।
রসের সমঝদার দেবকুমার ব্যানার্জি হুগলির ডানকুনি থেকে রস আর খেজুর গুড় কিনতে এসেছিলেন। তার কথায়, “শীতের অন্যতম অনুষঙ্গ এই খেজুর গুড়। পাটালি আর একটু ভাল নলেনের টানে এখানে আসা। কিন্তু এবার সেই মজাই নেই।” নরেন্দ্রনাথ মিত্রের বিখ্যাত গল্প ‘রস’। বেতার নাটক কিংবা বাংলা সিনেমার পর হিন্দিতে অমিতাভ বচ্চনকে নায়ক করে তৈরি হয়েছিল সওদাগর ছবি। সে গল্পেও শিউলি হয়েছিলেন অমিতাভ। সুন্দর দেখতে বলে ফুলবানুকে বিয়ে করতে মাজুবিকে ছেড়ে আসেন। কিন্তু মাজুবির হাতের সেই জাদু ফুলবানুর ছিল না। তাই ব্যবসা বাঁচাতে মাথা নিচু করে মাজুর কাছেই হাত পাততে হয়েছিল।
এবার প্রকৃতির কাছেই দু'হাত পেতেছেন রসের কারিগররা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ। পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে হালকা আবার কোথাও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। আশা আশঙ্কার দোলাচলে আছেন শিউলিরা। নিম্নচাপ সরলে জমিয়ে উত্তুরে বাতাস বইবে কি! জাঁকিয়ে শীত পড়বে কি! আশায় বাঁচে চাষা।