
শেষ আপডেট: 16 November 2023 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতীর ফলক বিতর্কে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের। ফলকে নাম থাকবে না বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপাচার্যর (প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর।
তার পরিবর্তে ফলকে কী লেখা থাকবে, সেটাও ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। এজন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্তেদেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন ইসির সদস্য।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের এমন নির্দেশ আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে ফলক সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে নতুন ফলকে লেখার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ পাঠানো হয়েছে।
ওই ইংরাজি অনুচ্ছেদটিকে বাংলা এবং হিন্দিতে অনুবাদ করা হবে। ইংরাজি, বাংলা এবং হিন্দি— তিন ভাষাতেই ওই অনুচ্ছেদ বিশ্বভারতীর নতুন ফলকে লেখা থাকবে।
মাসখানেক আগে ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় বিশ্বভারতী। এরপরই সেখানে বিশ্বভারতীর আচার্য, অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম দিয়ে ফলক বসানো হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আশ্রমিকরা।
এর পাশাপাশি দেখা যায়, সেই ফলকে নাম নেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের! যা তাঁদের ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ করে দেয়। লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চলতে থাকে। এফআইআর দায়ের হয় বিশ্বভারতীর তদানীন্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই উপাসনাগৃহ, ছাতিমতলা, শান্তিনিকেতন গৃহ-সহ মূল আশ্রমের একাধিক জায়গায় অ-রাবীন্দ্রিক ফলক লাগিয়েছে। এতদিনের রীতি ভেঙে নামফলক লাগানো হয়েছে। এই ঘটনা শান্তিনিকেতনের গৌরব এবং মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন গৃহ-সহ মূল আশ্রম প্রাঙ্গন পুরোটাই শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি। এর দেখাশোনা করার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে পুরাতত্ত্ব বিভাগ।
ফলে ফলক কে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্রমেই বেড়েই চলেছিল। এরই মাঝে সম্প্রতি বিদ্যুৎবাবুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার ফলক বিতর্কে কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক।