দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বার বার অভিযোগ করেছেন, তাঁকে হেনস্থা করার জন্যই সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে তার জবাব দিল ইডি। সংস্থার কৌঁসুলি বলেন, ৭৩ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতাকে হেনস্থা করার কোনও ইচ্ছাই আমাদের নেই। হেনস্থা নয়, দুর্নীতি দমনের জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা দরকার। তাঁকে গ্রেফতারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রক্ষাকবচ দেওয়ার দরকার নেই।
চিদম্বরমকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এবার ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে চায়। ইডি যাতে গ্রেফতার না করতে পারে সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চিদম্বরম। মঙ্গলবার তাঁর কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি বলেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে গ্রেফতার করার একটাই উদ্দেশ্য, হিউমিলিয়েশান, হিউমিলিয়েশান, হিউমিলিয়েশান ! হেনস্থা, হেনস্থা, হেনস্থা ! বুধবার তার জবাবে ইডি-র কৌঁসুলি তুষার মেহতা বলেন, চিদম্বরমকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্য, প্রিভেনশান, প্রিভেনশান, প্রিভেনশান ! প্রতিরোধ, প্রতিরোধ, প্রতিরোধ !
চিদম্বরমের ছেলে কার্তি বলেছেন, আমরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, আমাদের যদি কোনও গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে, লুকোন সম্পত্তি থাকে, আমরা যদি ভুয়ো কোম্পানির নামে টাকা রেখে থাকি, তাহলে আদালতে তার প্রমাণ দেওয়া হোক।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৭ সালে তিনি বিধি ভেঙে আইএনএক্স মিডিয়াকে বিদেশি অর্থ পাইয়ে দিয়েছিলেন। সেজন্য তিনি ও তাঁর ছেলে কার্তি বিরাট অঙ্কের কিকব্যাক পান। ইডি এদিন আদালতে বলে, চিদম্বরমকে যদি গ্রেফতার করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তদন্তের পথে বাধা সৃষ্টি হবে।
আইনজীবী তুষার মেহতা এদিন বলেন, অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী ঘুষের অর্থ খুব ধুর্ততার সঙ্গে নানা জায়গায় সঞ্চিত রেখেছেন। আমরা বিদেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে। সেসব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। নিয়মমতো মুখ বন্ধ খামে আমরা তথ্যগুলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেব। এই মামলা খুবই সংবেদনশীল। চিদম্বরমকে বন্দি করে জেরা করতে হবে। না হলে বিশেষ কিছু জানা যাবে না।