
শেষ আপডেট: 10 November 2022 05:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শৌচালয়ে রাখা বালতির জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল ৩ বছর বয়সি শিশুর (child death)। দেহ কবরস্থ করাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বালতির জলে ডুবে নাতির এই মর্মান্তিক মৃত্যু মানতে পারেননি শিশুটির দিদিমা। তাই বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হওয়ার পরেই এবার কবর (grave) থেকে শিশুটির দেহ তুলে ময়নাতদন্ত (postmortem) করার অনুমতি পেল পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে আনন্দপুর থানা এলাকার নোনাডাঙায়। মৃত শিশুটির নাম রোহন মণ্ডল। জানা গেছে, ৩ বছরের রোহনকে নিয়ে পঞ্চান্নগ্রামে একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন তার বাবা বিজয় ও মা সোনি। বিজয় ও সোনি দু'জনেই জুতোর কারখানায় কাজ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে নোনাডাঙায় বিজয়ের মায়ের কাছে আসেন সোনি ও বিজয়। সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ির ভেতর থেকে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে সেখানে যান প্রতিবেশীরা। তখন দেখা যায়, ফ্ল্যাটের ভিতর প্লাস্টিকে মুড়ে বিছানার উপর শোয়ানো রয়েছে রোহনের মৃতদেহ। তাকে ঘিরে কাঁদছেন বাড়ির বাকিরা।
খোঁজখবর করে জানা যায়, রবিবার পঞ্চান্নগ্রামের বাড়ি থেকে কাজে গিয়েছিলেন সোনি। ছেলের সঙ্গে বাড়িতে সেদিন একাই ছিলেন বিজয়। সেদিন ছেলেকে ঘরেই রেখে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন, শৌচাগারে বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে রোহন। সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীকে ফোন করে বাড়িতে আসতে বলেন তিনি। সোনি ফেরার পর দেখতে পান, ছেলে নড়াচড়া করছে না। দুজনে মিলে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরেই স্ত্রীকে সঙ্গে করে রোহনের মৃতদেহ নিয়ে নোনাডাঙায় নিজের মায়ের কাছে আসেন বিজয়। তারপরেই শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবিবার রাতেই শিশুটির দেহ কবর দিতে চাইলেও মৃত্যুর শংসাপত্র না থাকায় সেই কাজ আটকে ছিল সোমবার সকাল পর্যন্ত। তবে সোমবার শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি কবর দিয়ে দেওয়া হয় রোহনকে। শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক কিনা, তা নিয়ে সন্ধিহান স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ছেলেকে একেবারেই সহ্য করতে পারত না বিজয়। নোনাডাঙায় থাকার সময় নিজের একরত্তি সন্তানকে মেরে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছিল বিজয়, দাবি তাঁদের। এলাকাবাসী এই ঘটনার পর বিজয়কে সাবধান করলে পঞ্চান্নগ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে সে, জানা গেছে এমনটাই।
এই ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় ফোন করে নাতির মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুটির দিদিমা। পরে এ বিষয়ে তিনি লিখিতভাবেও অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরেই মামলা রুজু করে আনন্দপুর থানার পুলিশ। তবে বুধবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকী, বিজয়েরও খোঁজ মিলছে না বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যেই কবর থেকে তুলে ময়না তদন্ত করার আইনি অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন এক তদন্তকারী আধিকারিক।
পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মেয়েকে খুনের চেষ্টা! অশোকনগরে গ্রেফতার মা ও প্রেমিক