
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথা ছিল, দুপুর দুটোয় তিনি বিকাশভবনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে যোগ্য ও অযোগ্য বাছাইয়ের ফর্মুলা দিয়ে আসবেন।
কিন্তু নাহ, এদিন কসবায় যেভাবে চাকরিহারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, তার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ভেস্তে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)।
এদিন এসএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে নিজের সেই ফর্মুলার চিঠি ছিঁড়ে দিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, "কসবা থেকে বারাসত, দিকে দিকে যেভাবে চাকরিহারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমার যে বৈঠকে বসার কথা ছিল, তা বাতিল করলাম।"
এরপরই নিজের পকেট থেকে একটি চিঠি বের করে প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ বলেন, "এই সেই চিঠি। ব্রাত্য বসুর হাতে তুলে দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু যেভাবে শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করল, তাতে এরপর আর আলোচনায় বসা ঠিক নয়।"
কথা বলতে বলতেই নিজের হাতে থাকা সেই চিঠি ছিঁড়ে ফেলে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "এসএসসির তরফে আমাকে সরাসরি কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে ওদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হয়েছে, ওরা যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই করতে পারবে। তাই ওদের ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে যাচ্ছি। তারমধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।"
বুধবার সকালে চাকরিহারাদের একাংশ জড়ো হন কসবার ডিআই অফিসের সামনে। তবে তাঁদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল পুলিশ। ব্যারিকেডের তো ছিলই, ডিআই অফিসের গেটে তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালা ভেঙেই ডিআই অফিসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন চাকরিহারারা। সেই সময়েই পুলিশের লাঠির ঘায়ের মুখে পড়েন তাঁরা। পুলিশের লাঠিচার্জে একাধিক শিক্ষক জখম হন বলে অভিযোগ। একই ঘটনা ঘটে বারাসত, বর্ধমানেও।
এদিকে যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই কীভাবে করা সম্ভব, সেই ফর্মুলা এদিন শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ব্রাত্যও জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন বিচারপতির ওই চিঠি দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) হাতে পৌঁছে দেবেন। তবে শেষ মুহূর্তে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনার পথে জটিলতা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে।