ঘটনার জেরে এলাকার রাজনৈতিক মহলে তো বটেই জনমানসেও তীব্র শোরগোল ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এভাবে কাউন্সিলররা আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
_0.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার (Police Inaction) অভিযোগে এবার বনগাঁ থানার (Bangaon) সামনে তৃণমূলের আক্রান্ত কাউন্সিলরদের বিক্ষোভ (TMC councilors)। বুধবার গভীর রাতে তৃণমূলের কাউন্সিলর (Tmc women councilor) শিখা ঘোষ-সহ ৬জন কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড সভাপতি উত্তম ঘোষের বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
তারই প্রতিবাদে এদিন সকালে প্রথমে থানায় এবং পরে মহকুমা শাসকের অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন শাসকদলের আক্রান্ত কাউন্সিলররা। ঘটনার জেরে এলাকার রাজনৈতিক মহলে তো বটেই জনমানসেও তীব্র শোরগোল ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এভাবে কাউন্সিলররা আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
তৃণমূলের আক্রান্ত কাউন্সিলরদের অভিযোগ, এলাকায় আইনের শাসন থাকলে এই ঘটনা ঘটে কি করে? এমনকি হামলার সময় পুলিশকে ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশ অনেক দেরি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলেও অভিযোগ। দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন আক্রান্ত কাউন্সিলররা। আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দলের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, অভিযোগ শোনা মাত্রই ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বনগাঁ তৃণমূল জেলা পার্টি অফিসে পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে কাউন্সিলরদের বৈঠক হয়েছিল। পাঁচজন কাউন্সিলর সেখানে ভোট না করেই বেরিয়ে আসেন—তাদের মধ্যে ছিলেন শিখা ঘোষ-সহ আক্রান্তরা। তাঁদের অভিযোগ, অনাস্থাতে সই না করার ফলেই হামলা। নেশাগ্রস্ত একদল যুবক প্রথমে বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে। তারপরই শুরু হয় তাণ্ডব—ইট ছোড়া, সিসিটিভি ভাঙচুর, ভয় দেখানোর চেষ্টা। এমনকী বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাও ছোড়ে বলে অভিযোগ। দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের ইন্ধনেই এই হামলা বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী উত্তম ঘোষের দাবি, “প্রায় শতাধিক বাইক এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনে। এরপরই শুরু হয় গালিগালাজ ও ভাঙচুর। পুলিশকে ফোন করেও তৎপরতা পাইনি।” দম্পতির দাবি—নিরাপত্তাহীনতা এতটাই বাড়ছে যে তাঁদের বাড়িতে এমন হামলা হলে সাধারণ মানুষ নিজেকে কতটা অসুরক্ষিত ভাববেন, তা সহজেই আন্দাজ করা যায়।
বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কটাক্ষ, “পুরসভা দখলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এবং তৃণমূল সভাপতির মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। তারই ফল এই দুষ্কৃতীরাজ।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শীঘ্রই চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মহকুমা শাসক।