
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 April 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিস্থিতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস থেকে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়- সকলে বারে বারে শান্তিরক্ষার বার্তা দিচ্ছেন। শক্ত হাতে অশান্তি মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও।
তারপরও ভুয়ো ছবি ছড়িয়ে বাংলাকে অশান্ত করার অভিযোগ উঠল পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজ্য বিজেপির অফিসিয়াল এবং ভেরিফায়েড এক্স হ্য়ান্ডেল (BJP's official X handle) থেকে সম্প্রতি এমন কিছু পোস্ট করা হয়েছে, যেগুলি অন্য রাজ্যের। অথচ সেগুলি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, বাংলায় হিন্দুরা কীভাবে নির্যাতিত হচ্ছে।
এরই জেরে বিজেপির এক্স হ্যান্ডেল যারা পরিচালনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। পুলিশ সূত্রের খবর, কেন এভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে বিজেপির এক্স হ্যান্ডেলের ইউজারদের কাছে। এ ব্যাপারে পদ্মশিবিরের কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
হিংসার ঘটনায় উস্কানির অভিযোগ প্রসঙ্গে সোমবার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবাবু বলেন, "অন্যান্য জায়গার ছবি দেখিয়ে বাংলার বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।"
সরাসরি বিজেপির নামোল্লেখ না করে বিমানবাবু এও বলেন, "বললে অনেক কথা বলতে হয়, কিন্তু আমি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না। তবে মনে রাখতে হবে, যারা এই অশান্তি করছেন তারা দুষ্কৃতীকারী। সব ধর্মকে নিয়ে মানুষ, যারা ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধেও হিংসায় উস্কানি দেওয়ার জন্য বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে সোমবারের পর মঙ্গলবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার থানায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে টিএমসিপি।
তৃণাঙ্কুরের কথায়, "বাংলার শান্ত মাটিকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির যেভাবে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর প্রতিবাদে থানায় থানায় এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি মানুষকে সচেতনও করা হবে। আমরা চায় না কোথাও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হোক।"