.jpeg)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধীর চৌধুরী।
শেষ আপডেট: 5 May 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আগামিকাল মঙ্গলবার সামশেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে প্রশাসনিক সভা থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করবেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই সভা নিয়ে এবার বড় অভিযোগ আনলেন বহরমপুরের কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। অধীরের অভিযোগ, মুর্শিবাদের আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সভায় হাজির করাতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রীর ইজ্জত থাকবে না! তাই যারা সবকিছু হারিয়ে সর্বশান্ত, তাদের ওপর নতুন করে পুলিশি জুলুম শুরু হয়েছে! সভায় যাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ চাপ দিচ্ছে।
অধীরের কথায়, "মরেও শান্তি নেই বাংলায়। একজন পরিবারের স্বামী ও সন্তান খুন হল। শ্রাদ্ধ করার জন্য পুরোহিত পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে পুলিশ বাড়ির লোককে জোরজবরদস্তি করে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিয়ে যেতে চাইছে।"
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অধীর এও বলেন, "আপনার পার্টি, আপনার সরকারের জন্য ওরা সব হারিয়ে সর্বশান্ত। ওরা কী চাইতে আপনার কাছে যাবে? বরং আপনারই তো উচিত ছিল, ওদের বাড়িতে গিয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়া!"
এদিন মুর্শিদাবাদে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "হিংসার যে ঘটনা ঘটেছে তা পূর্বপরিকল্পিত। ধর্মের নামে কেউ কেউ ভুল কথা প্রচার করছে। তার জন্য মানুষ প্ররোচিত হচ্ছে। সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।"
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নসাৎ করে অধীরের অভিযোগ, "দেখাচ্ছে কত কড়া প্রশাসন। তাই সফরের আগে দুটো সাধারণ অফিসারকে বসিয়ে দেওয়া হল। এসপি কোথায় ছিল? উর্ধতন অফিসাররা কোথায় ছিল? দুটো এএসআইকে কেন বসিয়ে দিলেন? অপরাধ তাঁরা করছে? অপরাধ করেছে আপনার পার্টির নেতারা। পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল, তাই ৫ মিনিটের পথ পুলিশ গিয়েছিল ৫ ঘণ্টা পরে।"
অধীর এও বলেন, "মুর্শিদাবাদবাসীর পক্ষ থেকে বলছি, এই ভয়ঙ্কর ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যেন মুর্শিদাবাদের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। আপনি পুলিশমন্ত্রী, আপনি মুখ্যমন্ত্রী—এ দায় আপনারই।" একই সঙ্গে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, রোজগারের ব্যবস্থা, অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
অধীরের আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে সামশেরগঞ্জে তোলাবাজি শুরু করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করবেন, সেটা দেখিয়েই ওরা তোলা তুলছে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বাবা-ছেলের। তারপর পুলিশি জুলুমের অভিযোগ এনে নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপত, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি লিখেছেন মুর্শিদাবাদের জাফরাবাদে খুন হওয়া মৃত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও চন্দন দাসের স্ত্রী পিঙ্কি দাস। সোমবার এ ব্যাপারে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপিও। এবার বড় অভিযোগ আনলেন অধীর।