তাঁরাই জানিয়েছেন, অনুব্রত অসুস্থ বলে আসতে পারেননি। এরপরই পুলিশের তরফে ফের একবার নোটিস পাঠানো হয়েছে।

অনুব্রত মণ্ডল
শেষ আপডেট: 31 May 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে বোলপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO)-এর অফিসে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal)। কিন্তু তিনি আসেননি। বদলে অফিসে যান তাঁর আইনজীবীরা। তাঁরাই জানিয়েছেন, অনুব্রত অসুস্থ বলে আসতে পারেননি। এরপরই পুলিশের তরফে ফের একবার নোটিস পাঠানো হয়েছে বীরভূমের তৃণমূল নেতাকে (TMC Leader)।
বোলপুর থানার আইসি (Bolpur PS IC) লিটন দাসকে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই অডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাঁকে এই ঘটনায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। অনুব্রত অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। সেই প্রেক্ষিতেই থানায় তলব করা হয়েছিল অনুব্রতকে।
সকাল থেকেই এসডিপিও অফিসে পৌঁছে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঋকি আগরওয়াল। তবে বেলা ১১টার পরও এসডিপিও অফিসে দেখা যায়নি অনুব্রতকে। পরিবর্তে তাঁর হয়ে পাঁচজন আইনজীবী এসডিপিও অফিসে আসেন। কিছু পরেই তাঁরা ফিরেও যান। এরপরই জানা যায়, তাঁরা জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল অসুস্থ তাই তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, হাজিরা দেওয়ার জন্য সময়ও চেয়ে নিয়েছেন তৃণমূল নেতা। তবে পুলিশ ইতিমধ্যে আবার তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পরই হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে।
রবিবারও যদি অনুব্রত মণ্ডল হাজিরা না দেন তাহলে কি পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে? এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, আরও একবার নোটিস দেওয়া হবে। তার মধ্যে হাজিরা না দিলে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ট মহল সূত্রের খবর, পুলিশের তলবে অনুব্রত নাও সাড়া দিতে পারেন। পরিবর্তে সোমবার জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানাতে পারেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়। পরে নবান্নের নির্দেশে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।