
শেষ আপডেট: 23 December 2019 09:23
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এনআরসি নিয়ে মিথ্যা রটনা চলছে। তিনি বলেন, এর সূচনা করেছে পূর্বতন কংগ্রেস সরকার। তাঁর সরকার এই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভা ও সংসদ – এই দুয়ের কোথাও কোনও আলোচনা করেনি।
তবে একথাও প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, শরণার্থীরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করলেও অনুপ্রবেশকারীরা সব সময় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করে।
এর আগে বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ জোরের সঙ্গে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সর্বত্র রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি হবে। খুঁজে বার করা হবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের।
অমিত শাহ বার বার আরও একটা বিষয়ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ কোনও ভাবেই ভারতীয় মুসলমানদের বিরোধী নয়। তিনি আশ্বস্ত করেন, মোদী সরকারের আমলে কোনও ধর্মের মানুষেরই কোনও রকমভয়ের কারণ নেই। যেসব সংখ্যালঘু প্রতিবেশী দেশ থেকে এ দেশে এসেছেন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে, তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার জন্যই এই আইন। তিনি বলেন, মোদী সরকার নিশ্চিত ভাবেই সারা দেশে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি কার্যকর করবে। এনআরসি হবে ধরে নিয়ে মন তৈরি রাখার পরামর্শও দেন অমিত শাহ।
এ মাসের গোড়ার দিকে ঝাড়খণ্ডে একটি নির্বাচনী জনসভায় এনআরসির দিনক্ষণও ঘোষণা করে দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যেই সারা দেশে এনআরসি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
২০১৯ সালের বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারেও বলা হয় যে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এনআরসি কার্যকর করা হবে। ইস্তাহারে বিজেপি বলেছিল, অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রভাব দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাষা ও সংস্কৃতির উপরে পড়ছে, এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট স্থানের মানুষের জীবন ও জীবিকার উপরে। এইসব এলাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এনআরসি হবে।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন প্রসঙ্গেও বিজেপি জানিয়েছিল, এই আইন ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের প্রতিশ্রুতি তারা ভোটের আগেই দিয়েছিল, তা দেখেই দেশের মানুষ বিজেপিকে নির্বাচিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য এ কথা বলেননি যে এনআরসি হবে না, তিনি বলেছেন এ নিয়ে আলোচনা হয়নি মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সংসদে।