লাঠিচার্জ ইস্যুতে পুলিশের সাফ বক্তব্য, শুরু থেকেই পুলিশ ধৈর্য-সংযমের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 16 May 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন (Bikash Bhavan) ঘেরাও অভিযান করেছিল 'যোগ্য' চাকরিহারারা (SSC Job Seekers)। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত ছিল বিকাশ ভবন চত্বর। শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ (Police Lathicharge) করায় পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়। এই ঘটনায় বহু প্রতিবাদী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই ইস্যুতে এবার কলকাতা হাইকোর্টেও (Calcutta High Court) মামলা দায়ের হল।
বিকাশ ভবনে চাকরিহারাদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর রাজ্যের উচ্চ আদালতের দারস্থ হন এক চাকরিহারা শিক্ষক। তিনিই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে। বৃহস্পতিবার যে ঘটনা ঘটেছে তার রেশ সহজে কেটে যাবে এমনটা নয়। শুক্রবার গোটা রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যে 'ধিক্কার দিবস' পালনের ডাক দিয়েছেন ওই প্রতিবাদী চাকরিহারারা। তার পরই জানা গেল কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হওয়ার কথা। এতএব ইস্যুটি নিয়ে যে আরও বেশি জলঘোলা হবে তা স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বিকাশ ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান শুরু করেন চাকরি হারানো প্রার্থীরা। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যান রাতভর। লাঠিচার্জের পরও মনোবলে খামতি পড়েনি তাঁদের। শুক্রবারও একদল বিকাশ ভবনের সামনে পুলিশি ব্যারিকেড সরিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পুলিশ তখনই হস্তক্ষেপ করে এবং আন্দোলনকারীদের পেছনে হটিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ফের সাময়িকভাবে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। চাকরিহারা আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি না মানা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই তাঁরা বিক্ষোভ তুলে নেবেন না।
এদিকে লাঠিচার্জ ইস্যুতে পুলিশের সাফ বক্তব্য, শুরু থেকেই পুলিশ ধৈর্য-সংযমের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছে। পরে আটকে থাকা ৬০০ মানুষকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করতে যেটুকু বলপ্রয়োগ একান্ত জরুরি, সেটাই করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম এবং এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতীম সরকার জানান, ওরা (চাকরিহারা) তো গত ৯ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, পুলিশ তো কোনও বাধা দেয়নি। বৃহস্পতিবারও পুলিশ শুধু আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল।
পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশের তরফে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ন্যূনতম বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।