দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম (Oil price) বেড়েছে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এদিন দেশেও রেকর্ড স্পর্শ করল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম বেড়েছে লিটার পিছু ২৫ পয়সা। এক লিটার পেট্রলের দাম ১০১ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০১ টাকা ৮৯ পয়সা। রাজধানীতে ডিজেলের দাম লিটার পিছু ৩০ পয়সা বেড়েছে। তার দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৮৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা ১৭ পয়সা।
মুম্বইতে এদিন এক লিটার পেট্রলের দাম ১০৭ টাকা ৯৫ পয়সা। এক লিটার ডিজেলের দাম ৯৭ টাকা ৮৪ পয়সা। কলকাতায় এক লিটার পেট্রলের দাম ১০২ টাকা ৪৭ পয়সা। এক লিটার ডিজেলের দাম ৯৩ টাকা ২৭ পয়সা। চেন্নাইতে এক লিটার পেট্রলের দাম ৯৯ টাকা ৫৮ পয়সা। এক লিটার ডিজেলের দাম ৯৪ টাকা ৭৪ পয়সা।
ইন্ডিয়ান ওয়েল, ভারত পেট্রলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তৈল শোধনাগার দু'টি বিষয়ের ওপরে নজর রেখে রোজ তেলের দাম সংশোধন করে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপরে নজর রাখা হয়। দ্বিতীয়ত ডলারের তুলনায় টাকার দাম কত হয়েছে, তার ওপরে লক্ষ রাখা হয়।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পেট্রল-ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। অনেকে আশা করেছিলেন তেল আসবে জিএসটি-র আওতায়। সেক্ষেত্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমত। কিন্তু লখনউয়ে অনুষ্ঠিত জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। রাজ্যগুলির আপত্তিতে জিএসটির আওতায় আনা হয়নি পেট্রল-ডিজেলকে।
পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, জিএসটি-র আওতায় এলে কেন্দ্র, রাজ্যের বিভিন্ন ট্যাক্সের গেরো থেকে বের করে আনা যেত পেট্রল-ডিজেলকে। কেন্দ্রীয় শুল্ক, ভ্যাট-সহ একাধিক ট্যাক্স থেকে মুক্তি পেত পেট্রল-ডিজেল। ফলে দাম কমত অনেকটা।
২০২০ সালের বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায়, কেন্দ্রীয় সরকার রাজস্ব আদায়ের জন্য জ্বালানির উপর শুল্ক বাড়িয়েছে। মহামারীজনিত কারণে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলিও একই পন্থা অনুসরণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুসারে, পেট্রোলিয়াম সেক্টরে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে শুল্ক আদায় হয়েছে তিন লক্ষ ৭১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। রাজ্যগুলি ভ্যাট বাবদ সংগ্রহ করেছে দু’লক্ষ দু’হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।
জিএসটির আওতায় পেট্রপণ্যকে আনার সম্ভাবনা তৈরি হতেই সংশয়ও তৈরি হয়েছিল। যেহেতু রাজ্যগুলিরও সরাসরি কর আদায়ের সুযোগ রয়েছে তাই জিএসটি কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিলে শেষ পর্যন্ত রাজ্যগুলি কতটা দরাজ মনে মেনে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই সংশয়ই সত্যি হয়। একাধিক রাজ্যের আপত্তিতে আপাতত আপাতত জিএসটির আওতায় আনা যায়নি পেট্রল-ডিজেলকে।