মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানিটি হয়।

কলকাতা হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 25 June 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। এক যোগ্য চাকরিপ্রার্থী শিক্ষিকার নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় এসএসসির নিষ্ক্রিয়তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত জানাল, 'মামলাকারীকে কি বন্দুকের নলের সামনে মাথা নিয়ে দাঁড়াতে বলা হবে?'
নদিয়ার নাহিদা সুলতানা। ২০১৬ সালের নবম-দশম শ্রেণির ইতিহাস বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসেন। পাশ করে চাকরি পান। ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঝুরুলি আদর্শ বিদ্যাপিঠে কাজে যোগ দেন। কিন্তু পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই নিয়োগ বাতিল করে। ফলে চাকরি হারান নাহিদা।
তবে তিনি উচ্চ প্রাথমিকে মেধা তালিকাভুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে আবার কাউন্সেলিংয়ে ডাকে কমিশন। তখন তিনি অন্যত্র কর্মরত থাকায় ৯০ দিনের সময় চান যোগদানের জন্য। অভিযোগ, সেই সময় বাড়াতে এসএসসি কোনও সহানুভূতিশীল ভূমিকা নেয়নি।
২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে চাকরি চলে যায় তাঁর। এরপর আপার প্রাইমারিতে, অর্থাৎ উচ্চ প্রাথমিকে, লাঙ্গুলিয়া বানেশ্বরী জুনিয়র হাইস্কুলে যোগদানের আবেদন করেন। কিন্তু সাড়া মেলে না এসএসসি থেকে।
মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানিতে, নাহিদার আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, সুপ্রিম কোর্ট প্যানেল বাতিল করলেও পুরনো সুপারিশের আইনি বৈধতা ছিল। ৯০ দিনের যোগদানের সময় তাঁর প্রাপ্য ছিল। অথচ কমিশনের নিষ্ক্রিয়তায় তাঁকে কাজেই ডাকা হয়নি। এটা সরাসরি এক প্রার্থীর অধিকারে হস্তক্ষেপ।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, ওই স্কুলে শূন্য পদ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে কমিশনকে। যদি থাকে, তা হলে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে কাউন্সেলিংয়ে সুযোগ দিতে হবে নাহিদাকে। ততদিনে এসএসসিকে তথ্য-সহ আদালতের সামনে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২ জুলাই।