মঞ্চের প্রশ্ন, "নির্বাচন কমিশনের বড় পদাধিকারীদের নম্বর কি ওয়েবসাইটে আছে? নেই। তাহলে কেন বিএলওদেরই সামনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর (Personal numbers) মানেই গোপনীয়তা। সেই নম্বরেই যুক্ত থাকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আধার, প্যান, বিমা—অগণিত সংবেদনশীল তথ্য। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাঁর মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া শুধু অবিবেচনায় নয়, সরাসরি ঝুঁকিরও কারণ। ঠিক এই কারণেই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্কে তেতে উঠেছে রাজ্য।
সমস্যার কেন্দ্রে রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বিএলও। গত ৪ নভেম্বর থেকে দিন–রাত একটানা তাঁদের ব্যক্তিগত নম্বরে আসছে ফোন। ভোটার তালিকার ইনিউমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে এখন ফর্ম সংগ্রহের ব্যস্ততম পর্ব—সবকিছুতেই ফোনে প্রশ্নের ঝড়। শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর। তারপর প্রকাশ হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার আগে এই ফোন-সুনামি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মাঠের কর্মীরা।
বিপদের আশঙ্কা আরও তীব্র মহিলা বিএলওদের ক্ষেত্রে। সমাজে তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, গোপনীয়তায় (Safety of women workers) আলাদা নজর—এ সবের মধ্যেই ব্যক্তিগত নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বা ভুল ফর্ম জমা হলে কেউ হুমকি দেবে কি না, কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে বিরক্ত করা হবে কি না—এই আতঙ্ক পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছেন না অনেকেই। উপরন্তু প্রলোভনের ফোন, প্রতারণা, পুরস্কারের টোপ—এসব তো এখন নিত্যসঙ্গীই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। আজ রাজ্যের যে-কোনও জায়গা থেকে বিএলওদের নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনের বড় পদাধিকারীদের নম্বর কি ওয়েবসাইটে আছে? নেই। তাহলে কেন বিএলওদেরই সামনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?”
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, কমিশনের উচিত ছিল এসআইআর কাজের জন্য অস্থায়ী আলাদা মোবাইল নম্বর দেওয়া। কাজ শেষ হলে সেই নম্বর নিষ্ক্রিয় হয়ে যেত। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও টিকত, ঝামেলাও কমত।
এসআইআর প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে—গোটা চাপটাই মাঠের কর্মীদের কাঁধে গিয়ে পড়ছে। আর তাঁদের ব্যক্তিগত নম্বর ভাইরাল হওয়া সেই চাপকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।