আজ উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে ভারতের আকাশেও, মাঝরাতে আলোর ফুলঝুরি ঝরাবে ‘পারসেড’
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর টানে ছুটে এসেছে পারসেড। গতকাল, মঙ্গলবার থেকেই আলোর ফুলকি ছড়াচ্ছে আকাশে। দীর্ঘসময় পরে এমন উল্কাবৃষ্টি দেখা গেছে বলেই জানিয়েছে নাসা। আজ ও আগামীকাল নাসার ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রজেক্টে উল্কাবৃষ্টির লাইভ দেখানো হবে। লোও
শেষ আপডেট: 11 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর টানে ছুটে এসেছে পারসেড। গতকাল, মঙ্গলবার থেকেই আলোর ফুলকি ছড়াচ্ছে আকাশে। দীর্ঘসময় পরে এমন উল্কাবৃষ্টি দেখা গেছে বলেই জানিয়েছে নাসা। আজ ও আগামীকাল নাসার ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রজেক্টে উল্কাবৃষ্টির লাইভ দেখানো হবে। লোওয়েল অবজারভেটরিতে ইতিমধ্যেই পারসেড মেটিওর সাওয়ারের ছবি লেন্সবন্দি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
ভারতের আকাশে আজ ও আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ২টোর পর থেকেই উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আকাশ মেঘলা না থাকলে খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা যাবে আলোর ফুলকি। ভোররাত অবধি আকাশজুড়ে আলো ছড়াবে পারসেড।
https://twitter.com/NASA/status/1293351749030420485
উল্কা হল মহাকাশে ভেসে বেড়ানো নানারকম পাথরখণ্ড যারা পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের টানে ছুটে আসে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ধাক্কাধাক্কি হলে বায়ুর কণার সঙ্গে ওইসব মহাজাগতিক পাথর খণ্ডের ঘষা লেগে আগুন জ্বলে ওঠে। তাই মনে হয় আলোর ফুলকি ছড়াচ্ছে। একেই বলে উল্কাবৃষ্টি। পারসেড উল্কার উৎস হল ‘সুইফ্ট টাটল’ ধূমকেতু। এই ধূমকেতু কুইপার বেল্টের বাসিন্দা।

১৩৩ বছর অন্তর একবার করে পৃথিবীর সৌরমণ্ডলে ঢুকে পড়ে। সূর্যকে পাক খেয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। এই ধূমকেতুরই অংশ হল পারসেড। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, মহাশূন্যে এক শীতলতম জায়গা আছে। এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি কিলোমিটার। সৌরমণ্ডলের বাইরে বলয়ের মতো সেই জায়গা প্রায়ে সাড়ে ৩০০ কোটি কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এখানে ধুলো আর গ্যাসের ঘনত্ব খুব কম। পাথর আর বরফের টুকরোয় ভরা। বলা হয় প্লুটো আসলে এই কুইপার বেল্টের মধ্যেই রয়েছে।
পারসেড উল্কাখণ্ডদের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মাইল। নাসা জানিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭৫টি উল্কাখণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলে উঠবে। আকাশজুড়ে আলোর মালার মতো ঝরে পড়বে। তবে এই সংখ্যা ঘণ্টায় দেড়শো থেকে দুশোও হতে পারে। লোওয়েল অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিক মস্কোভিজ় বলেছেন, ক্যানারি আইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শারজা অ্যাকাডেমি থেকে উল্কাবৃষ্টি পরিষ্কার দেখা গেছে। আজ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে ‘পারসেড মেটিওর সাওয়ার’।