আদালতের নির্দেশের পর সুমনের প্রতিক্রিয়া, “আমাদের অপরাধ কী? আমরা দুর্নীতি করিনি। যোগ্য তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছি না। জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই রাস্তায় নামছি।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের পুলিশি 'জুলুম'-এর অভিযোগ। তীব্র উত্তেজনা করুণাময়ী চত্বরে। অভিযোগ, পুলিশের হাতে নিগৃহীত চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ বিনা প্ররোচনায় পুলিশ তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করেছে, ভেঙে দিয়েছে মোবাইলও। গোটা ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
চাকরির দাবিতে ফের সরব হয়েছেন এসএসসি-তে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া (SSC Recruitment Case) একাংশ শিক্ষক । দাগিদের তালিকা প্রকাশের পর ‘যোগ্যদের’ নিয়োগের দাবিতে আজ ফের এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দেন (Acharya Sadan) আন্দোলনকারীরা। সেই কর্মসূচি আটকাতে সকাল থেকেই তৈরি কলকাতা পুলিশ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয় সল্টলেকের নানা প্রান্তে। তৈরি রাখা হয় প্রিজন ভ্যানও।
তবু আন্দোলন রোখা যায়নি। করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে হঠাৎ জাপটে ধরছেন পুলিশকর্মীরা। তিনি সুমন বিশ্বাস, চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁর সঙ্গে থাকা সঞ্জয় বিশ্বাস ফেসবুকে লাইভ করে দাবি করেন, “সুমনকে কোনও কারণ ছাড়াই ধরা হচ্ছে। তাঁর নামে কোনও এফআইআর নেই, কেস নেই। তবু তাঁকে আটকানো হল!”
সুমনের অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে মেট্রো স্টেশনেই ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করে। তাঁর মোবাইল ফোনটি ভেঙে দেওয়া হয়। কোনও মতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেন তিনি। পরে আদালতের দারস্থ হলে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়— সুমন-সহ পাঁচজন আন্দোলনকারীর আচার্য সদনে প্রবেশে কোনও বাধা দিতে পারবে না পুলিশ। তবে নতুন করে এদিন আর চাকরিহারারা মিছিল করতে পারবে না।
আদালতের নির্দেশের পর সুমনের প্রতিক্রিয়া, “আমাদের অপরাধ কী? আমরা দুর্নীতি করিনি। যোগ্য তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছি না। জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই রাস্তায় নামছি।”
অন্যদিকে, আজ বিধানসভামুখী আন্দোলনের পরিকল্পনাও নিয়েছেন একাংশ চাকরিহারা শিক্ষক। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।