দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাপের মুখে অবশেষে মামলা তুলে নিল বহুজাতিক সংস্থা পেপসিকো। তাদের নথিভুক্ত বিশেষ বীজ ব্যবহার করার অভিযোগ এনে গুজরাটের ন’জন আলুচাষির বিরুদ্ধে বিরাট অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করেছিল পেপসিকো। তাদের দাবি ছিল, এই আলুর পেটেন্ট রাইট রয়েছে একমাত্র পেপসিকোর কাছেই। কারণ এই বিশেষ রকম আলু থেকেই তৈরি হয় লে’স চিপস। পেপসিকোর মামলার পাল্টা দাবি তুলে সরব হয়েছিল কৃষক সংগঠনগুলি। আইনি লড়াইয়ে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল গুজরাট সরকার।
গত সপ্তাহে আমদাবাদের সিভিল কোর্টে এই মামলার প্রথম শুনানি ছিল। সেখানে চাষিদের তরফে জোর লড়াই করেছিলেন আইনজীবী আনন্দ যাজ্ঞিক। তিনি বলেছিলেন, আলু চাষে কখনও নির্দিষ্ট পেটেন্ট থাকতে পারে না। চাষিরা তাদের ইচ্ছামতো আলু চাষ করতেই পারে। পেপসিকোর কোনও অধিকারই নেই সেখানে নাক গলানোর। চাপের মুখে চাষিদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে সুর নরম করেছিল পেপসিকো। পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়েছিল ১২ জুন। তার আগেই মামলা প্রত্যাহার করে নিল পেপসিকো।
মার্কিন এই বহুজাতিক সংস্থার ভারতীয় শাখার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের যে ন’জন চাষিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলে মামলা করা হয়েছিল, সেটা তুলে নেওয়া হলো সংস্থার তরফে। চাষিদের চিন্তার আর কোনও কারণ নেই।
আলু-কাণ্ডের সূত্রপাত হয় দিনকয়েক আগে। পেপসিকোর অভিযোগ ছিল, উত্তর গুজরাটের সবরকান্থা ও আরাবল্লী জেলার ন’জন চাষি FL2027 বা FC5 প্রজাতির একটি বিশেষ ধরনের আলু তাদের ক্ষেতে চাষ করেছে। এই আলুই পেপসিকোর ট্রেডমার্ক (‘পেপসি আলু’) যা তাদের ব্র্যান্ডের চিপস তৈরির জন্যই দরকার পড়ে। চাষিদের সঙ্গে চুক্তি করে এই আলু তারা আলাদা ভাবে ফলায়। কাজেই তাদের অনুমোদন ছাড়া চাষিরা পেপসি আলু চাষ করে ভয়ানক ‘অপরাধ’ করে ফেলেছে। তার জন্য এই ন’জনের চারজনকে এক কোটি টাকা করে ও বাকি পাঁচজনকে ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট-সহ নানা রাজ্যের প্রায় হাজার দশেক আলু চাষির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পেপসিকো। ২০০৯ সাল থেকেই এই দেশে ব্যবসা শুরু করেছে মার্কিন বহুজাতিক এই সংস্থা। চিপস তৈরির এই বিশেষ আলু চাষের জন্য শুধু বীজ, সার দিয়ে নয়, ছোট জমিতে যন্ত্রচালিত আলু চাষেও সহায়তা করে এই সংস্থা। নতুন প্রযুক্তি জোগানোর পাশাপাশি যন্ত্র কেনার জন্য ঋণের টাকারও সংস্থান করা হয়। অতএব চুক্তিতে যাওয়ার আগে সংস্থার তরফে কতগুলি শর্ত মানতে হয় চাষিদের। যেমন ওই নির্দিষ্ট প্রজাতির বীজ থেকে যে আলুন ফলন হবে তা শুধুমাত্র পেপসিকোকেই বিক্রি করতে হবে। তাই বীজ পাওয়ার পরে স্বাধীনভাবে আলু চাষ বা সেটা বাজারে বিক্রি করার অধিকার চাষিদের থাকবে না। কাজেই সংস্থার যুক্তি ছিল, এই শর্ত অমান্য করেছেন চাষিরা। তবে পেপসিকোর দাবি উড়িয়ে পাল্টা চাষিদের যুক্তি ছিল, কৃষক অধিকার সুরক্ষা আইন (২০০১) অনুসারে চাষি যে কোনও ফসল বা বীজ বিক্রি করতে পারেন। এই বিষয়ে চাষির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে একই সঙ্কট দেখা দেবে।