ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার সেকেন্ড অফিসারের ভাড়াবাড়ি থেকে বেশ কিছু টাকা খোয়া যায়। প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খোয়া গেছে দাবি করে ওই আধিকারিক তার সমস্ত দায় চাপিয়ে দেন বাড়ির পরিচারক সজল সহিসের কাঁধে।

শেষ আপডেট: 22 November 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে উত্তাল হল বাঁকুড়ার রানিবাঁধ। টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ির পরিচারককে দফায় দফায় বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে রানিবাঁধ থানার সেকেন্ড অফিসার শুভম রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ওই আধিকারিক পরিচারকের দিদিকে কুপ্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সন্ধে সাতটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁকুড়া ঝিলিমিলি রাস্তায় রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম বসু স্ট্যাচু মোড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে রাখেন। পরে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা গিয়ে অবস্থা সামাল দেয়। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য খাতড়ার এসডিপিওকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি। তবে শনিবার সকাল থেকে ফের রাস্তায় নামেন এলাকার মানুষ। শুরু হয় অবরোধ।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার সেকেন্ড অফিসারের ভাড়াবাড়ি থেকে বেশ কিছু টাকা খোয়া যায়। প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খোয়া গেছে দাবি করে ওই আধিকারিক তার সমস্ত দায় চাপিয়ে দেন বাড়ির পরিচারক সজল সহিসের কাঁধে। অভিযোগ, ওই টাকা সজল চুরি করেছে এই অপবাদ দিয়ে ওই টাকা ফেরতের জন্য প্রথমে তাঁর উপর চাপ দেন ওই আধিকারিক। সজল তা স্বীকার না করায় ওই আধিকারিক নিজের বাড়িতে সজলকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
সজলের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় ওই আধিকারিক নিজের সার্ভিস রিভলবার দেখিয়ে তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। সজলের বক্তব্য, "প্রবল নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে আমি চুরির অপবাদ মেনে নিতে বাধ্য হই। এরপর শুক্রবার উনি আমাদের রাজাকাটা গ্রামের বাড়িতে হানা দিয়ে বাড়িতে থাকা নগদ অল্প কিছু টাকা ও অলঙ্কার জোর নিয়ে চলে যান। আমার পরিবারের লোকজন ওঁর হাতে পায়ে ধরলেও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে ওই আধিকারিক আমার দিদিকে কুপ্রস্তাব দেন।"
শুক্রবার ফের সজলকে বাড়িতে ডেকে ওই আধিকারিক মারধর করেন বলে অভিযোগ। আহত সজল রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করান। ঘটনার কথা জানাজানি হয়। এরপরই স্থানীয় রাজাকাটা গ্রামের মানুষ ওই পুলিশ আধিকারিকের কঠোর শাস্তির দাবিতে বাঁকুড়া ঝিলিমিলি রাস্তার উপর ক্ষুদিরাম বসু স্ট্যাচু মোড়ে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সন্ধে সাতটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রানিবাঁধ থানার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বারিকুল ও খাতড়া থানার পুলিশও হাজির হয় অবরোধস্থলে। পুলিশ অবরোধকারীদের সরাতে গেলে পুলিশকে ঘিরেও ক্ষোভে ফেটে পড়েন অবরোধকারীরা। পরে পুলিশ আধিকারিকরা গোটা ঘটনার তদন্ত করে পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, "ঘটনা নিয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য খাতড়ার এসডিপিওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের ভুলত্রুটি থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।" একই সঙ্গে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাঁদের রানিবাঁধ থানায় তলব করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে না গিয়ে অভিযোগকারীরা দফায় দফায় পথ অবরোধ করছেন। পুলিশ অবরোধকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।"