
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।
শেষ আপডেট: 18 February 2025 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেফার বন্ধ করতে জেলায় জেলায় সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামোর মান্নোন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। তারপরও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একাধিক মামলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম।
এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, গ্রামের মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে ছুটে বেড়ান! রাজ্যের আইনজীবী কিছু বলার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি এও বলেন, "একবার আমার হোমটাউনে ( চেন্নাই) যান, চিকিৎসকরা কী করে দেখে আসুন।”
আদালত সূত্রের খবর, চন্দননগরের এক ব্যক্তি এলাকায় হাসপাতাল তৈরির জন্য ১৯৭৬ সালে ৩০ বিঘে জমি দিয়েছিলেন। অথচ সেখানে মাত্র ১০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি হয়। জমি থাকা সত্ত্বেও কেন হাসপাতাল বড় করা হচ্ছে না, এ নিয়েই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা গড়িয়েছিল। মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, জমি রয়েছে, হাসপাতাল বড় আকারে হলে চিকিৎসার জন্য এলাকার মানুষকে সরকারি হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াতে হবে না।
ওই মামলার পর্যবেক্ষণে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে তুলোধনা করে বিচারপতি জানতে চান, কেন কারও মনে হল না ওখানে বড় হাসপাতাল তৈরি জরুরি? স্বাস্থ্য কর্তাদের কটাক্ষ করে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম বলেন, “আপনারা ক্রিসমাসে লাইটিং করে গর্ব বোধ করেন। অথচ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য সঠিক পদক্ষেপ করতে পারেন না!"
সুন্দরবন থেকে জঙ্গলমহল, মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি এও বলেন, “আপনাদের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা জিয়াই ট্যাগ নিয়ে খুব গর্বিত। এসব না করে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে একটু কাজ করুন। শিশুদের লেখা পড়া শেখানোর ব্যবস্থা করুন। কয়েক প্রজন্ম কৃতজ্ঞ থাকবে।”
৪ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন আদালতে রাজ্যকে জানাতে হবে, কেন চন্দনগরের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হল না।