.webp)
শেষ আপডেট: 13 April 2024 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে পদে পদে মানবাধিকার বিঘ্নিত হয়েছে বলে অনুসন্ধান রিপোর্টে জানাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। শনিবার তারা রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে তাদের অনুসন্ধান রিপোর্ট পাঠিয়েছে। গত মাসে কমিশনের প্রতিনিধিদল সন্দেশখালির মানুষের সঙ্গে কথা বলে যায়। কথা বলে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গেও।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেছে, সন্দেশখালির মানুষকে সবচেয়ে আতঙ্কিত করেছে প্রতিশোধের ভয়। সব সময় তাঁরা আতঙ্কে থাকতেন যে, অভিযোগ জানালে তাঁদের উপর হামলা হবে। সেই কারণে বহু মানুষ অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেছেন। অভিযোগ জানাননি।
প্রসঙ্গত, সন্দেশখানিতে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মহিলারা পথে নামলে তৃণমূল কংগ্রেস গোড়ায় পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিল। শাসক দলের নেতাদের একাংশের বক্তব্য ছিল, এতদিন কেন কেউ অভিযোগ করেনি। বিজেপি ও সিপিএম স্থানীয় মানুষকে পাশে নিয়ে চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলের কোনও কোনও নেতা।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে কমিশনের মনে হয়েছে, সন্দেশখালিতে ন্যায়ের শাসন এতটাই তলানিতে ঠেকেছিল যে, মানুষ ভয়ে অভিযোগ করতে যেতেন না। ঘটনা হল, আন্দোলনকারী বহু মহিলাও অভিযোগ করেছিলেন, থানা, বিডিও অফিস তাঁদের অভিযোগ শুনতে চাইত না। অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে সব মিটমাট করে নেওয়ার কথা বলত।
কমিশন কয়েকটি বিষয়ে রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে সুপারিশ করার পাশাপাশি আট সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের মনে হয়েছে, পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্পৃহ মনোভাবই সন্দেশখালির মানুষকে সবচেয়ে বিপন্ন করে তুলেছিল। কমিশন মনে করে, লাগাতার ভয়ের পরিবেশ শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদেরই নয়, শিশু-কিশোরদেরও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নের কারণ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালির মহিলাদের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্য সরকারকে পাঠানো সুপারিশপত্রে তারা উপযুক্ত কৃষিজমি ফিরিয়ে দেওয়া, যৌন সন্ত্রাসের শিকার মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ ফেরানোর কথা বলেছে।