
শেষ আপডেট: 23 February 2024 19:44
সুভাষ চন্দ্র দাশ, কুলতলি
তিনি বেঁচে রয়েছেন। অথচ পঞ্চায়েতের খাতায় তিনি 'মৃত'! তাই বন্ধ হয়ে গেছে বার্ধক্য ভাতাও। নিজেকে 'জীবিত' প্রমাণ করতে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে বছর আশির বৃদ্ধাকে। এমনই অভিযোগ উঠে এসেছে কুলতলির কুন্দখালি গোদাবর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে।
এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বালাহারানিয়া গ্রামে থাকেন মন্দোদরী মিশ্র। বয়স আশি পেরিয়েছে। এই বয়সে কাজ করা তার পক্ষে অসম্ভব। তাই ওই বার্ধক্য ভাতার হাজার টাকাতেই তাঁর কোনও রকমে চলে যেত। এখন পঞ্চায়েতের খাতায় তাঁকে "মৃত" বলে ঘোষণা করে দেওয়ায় সেই ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।
মন্দোদরীর অভিযোগ, বছরখানেক ধরে বার্ধক্য ভাতার টাকা মিলছিল না। কারণ খুঁজতে এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁকে সরকারি দফতরে অনেক চক্কর কাটতে হয়েছে। কিন্তু ভাতা বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে পারেননি। পরে পঞ্চায়েত দফতরে গিয়ে জানতে পারেন, রেকর্ড বইয়ে তাঁকে "মৃত" বলে দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃদ্ধা মন্দোদরী বলেন, "বিডিও পঞ্চায়েত সমস্ত জায়গাতে এসে নিজে জানিয়েছি যে আমি মৃত নই। এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেল এখনও বার্ধক্য ভাতার টাকা পাই না। এই টাকা না পাওয়ার কারণে ওষুধ কিনতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছি।"
কুলতলি ব্লকের কুন্দখালি গোদাবর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিজা গাজী বলেন, "জীবিত মহিলাকে কারা মৃত ঘোষণা করল, সে বিষয়ে আমি এখনই খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পঞ্চায়েত সদস্যদের বলা হয়েছে, এই বিষয়ে খোঁজ নিতে। বৃদ্ধার যদি বার্ধক্য ভাতা বন্ধ হয়ে থাকে, সেটাও কীভাবে ফেরত পাওয়া সম্ভব তাও দেখা হচ্ছে।"