ঘটনার পর ক্ষোভ ছড়ায় স্টেশনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তখন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল বামনগাছি স্টেশনে (Passenger Death At Bamangachi Station)। ট্রেন ধরার অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির নাম অর্জুন মণ্ডল (৬০), বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মুরালিতে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী ও এক মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ট্রেন ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন অর্জুনবাবু Passenger Death At Bamangachi Station। হঠাৎই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান। উপস্থিত যাত্রীরা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। কারও হাতে জল, কারও কাছে ওষুধ- যেভাবে সম্ভব তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন সকলে। এমনকি, এক স্থানীয় ব্যক্তি ভ্যান ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করতে চান। কিন্তু ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রৌঢ়।
ঘটনার পর ক্ষোভ ছড়ায় স্টেশনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তখন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। স্টেশন মাস্টার মাইকের মাধ্যমে আরপিএফকে বারবার ডাকলেও সাড়া মেলেনি দীর্ঘক্ষণ। পরে অনেক দেরিতে পৌঁছন আরপিএফ আধিকারিকরা। স্থানীয়দের দাবি, যদি সময়মতো সাহায্য করা হত, হয়তো বাঁচানো যেত ওই ব্যক্তিকে।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ছোট জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান অমল দাস। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। এদিকে, যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, স্টেশনে চিকিৎসা বা প্রাথমিক চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নেই। জরুরি অবস্থায় আরপিএফ বা স্টেশন কর্মীদের কাছ থেকেও দ্রুত সহায়তা মেলে না। এই ঘটনার পর রেলের অব্যবস্থাপনাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেল কতটা প্রস্তুত? বামনগাছি স্টেশনের এই মৃত্যু যেন সেই প্রশ্নকেই আরও তীব্রভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।