পর্ণশ্রীতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা। রত্না চ্যাটার্জিকে দেখে চোর স্লোগান গেরুয়া শিবিরের। পাল্টা রত্না-সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর।

রত্না চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 April 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্ণশ্রীতে (Parnasree) রাজনৈতিক সংঘর্ষে বড় মোড়। বিজেপির (BJP) নির্বাচনী কার্যালয়ে (Election Office) পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দায়ের হল এফআইআর (FIR)। কমিশন সূত্রে খবর, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল (TMC) প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chatterjee)-সহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। বেহালা পশ্চিমের (Behala West) বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে দুষ্কৃতীর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করে পর্ণশ্রী থানার (Parnasree Police Station) উদ্দেশে রওনা দেন বিজেপি প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা।
থানায় পৌঁছতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা পৌঁছনোর পরই থানার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেয় পুলিশ (Police)। বাইরে বিক্ষোভ চলতে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। পরে বিজেপি প্রার্থী থানার ভিতরে ঢোকেন। এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পাল্টা স্লোগান তোলে তৃণমূলও। এক পর্যায়ে বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। থানার বাইরে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।
এই ঘটনার পর ইন্দ্রনীল খাঁ অভিযোগ করেন, তৃণমূল প্রার্থী তাঁর “গুণ্ডাবাহিনী” নিয়ে এসে পুলিশের সামনেই ভাঙচুর চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) সবকিছু স্পষ্ট রয়েছে এবং তা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার (Arrest) না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রত্না। তাঁর পাল্টা দাবি, বিজেপি-ই আগে তৃণমূলের হোর্ডিং (Hoarding) ভাঙচুর করেছে। তিনি বলেন, “ভিডিও ফুটেজে আমার উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারলে আমি প্রার্থীই হব না।” তাঁর দাবি, নাম জড়ানো হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পুলিশ অবরোধ সরায়। তবে রাত পর্যন্ত থানার সামনে ধরনা (Dharna) চালিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। ছেঁড়া পোস্টার-ব্যানার থানার গেটের সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। পরিস্থিতি আপাতত থমথমে।