এলাকার বাসিন্দা রায়হান আলি জানান, ঘটনার আগের রাতেও বাবার সঙ্গে নামাজ পড়েছে হুমায়ুন। তবে অন্যদের কাছে শুনেছেন তার কাছে একটি ছুরি ছিল। সেটা সে অনলাইনে আনিয়েছিল।

মা বাবাকে খুনের দায়ে ধৃত ইঞ্জিনিয়ার
শেষ আপডেট: 29 May 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কী কারণে বাবা মাকে নৃশংসভাবে খুন করল হুমায়ুন তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না তার আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের। মেমারিতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া দম্পতির ছেলে হুমায়ুন কবির ওরফে আশিক। আত্মীয় জানিয়েছিলেন, সে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন। বিয়ে হয়েছিল কয়েক বছর আগে। কিছুদিন আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকায় নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন বাবা মা। সেটাই কাল হল।
হুমায়ুনের সম্পর্কিত ভাই সৈয়দ মহম্মদ বলেন, ছোট থেকে কোনও কিছুর অভাব ছিল না হুমায়ুনের জীবনে। অনেক সম্পত্তি। পড়াশোনাতেও ভাল। আর বাইরে থেকে দেখে কিছুই বোঝা সম্ভব ছিল না। তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিল সে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বুধবার দিল্লি না গিয়ে বনগাঁ কেন গেল তাও বুঝতে পারছেন না তাঁরা।
এলাকার বাসিন্দা রায়হান আলি জানান, ঘটনার আগের রাতেও বাবার সঙ্গে নামাজ পড়েছে হুমায়ুন। তবে অন্যদের কাছে শুনেছেন তার কাছে একটি ছুরি ছিল। সেটা সে অনলাইনে আনিয়েছিল। রায়হান আলি বলেন, "এমনিতে ভাল ছেলে হিসেবেই হুমায়ুন পরিচিত। ল্যাপটপে পড়াশোনা নিয়ে থাকত। আমার ধারণা, বাবা তাকে কিছু জিজ্ঞেস করাতেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে বসে আশিক।"
হুমায়ুনের পিসতুতো দাদা কাজী আখতার আলি জানান, ছোট থেকেই খুব মেধাবী হুমায়ুন। দিল্লিতে চাকরি পাবার পর মাঝে মাঝে বাড়ি আসত। কিন্তু কারও সঙ্গে মিশতো না। একাই ঘরে বসে থাকত। পরিবারটিও কারও সঙ্গে খুব একটা মিশত না। নামাজে গিয়ে দেখা হত। এই মেধাবী ছেলেটি এমন নৃশংসভাবে বাবা মাকে খুন করে দেহ বাইরে টেনে এনে ফেলবে ভাবতেও পারেনি তারা।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জি বলেন, "অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ছ'সদস্যের দল বনগাঁ গেছে গতরাতে। একেবারে প্রাথমিক ভাবে অনুমান ছেলেই বাবা মাকে খুন করেছে। তবে প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তাকে আমাদের হেফাজতে নিতে পারলে তদন্তের গতি বাড়বে।" হুমায়ুন বর্ধমানের সিএমএস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর যাদবপুর থেকে বিটেক করেন। এরপর ক্যাম্পাসিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে চাকরি পান। সেই চাকরি ছেড়ে দিল্লিতে চাকরি করতে যান। বছর ছয়েক আগে বিয়ে, তারপর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর কয়েকমাস আগে নিখোঁজ হয়ে যান। বাবা মুস্তাফিজুর রহমান ও মা মমতাজ পারভিন ছেলেকে হিমাচল থেকে খুঁজে বাড়িতে আনেন।
বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে জোড়া খুন নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাস্তার উপর থেকে উদ্ধার হয় প্রৌঢ় দম্পতির দেহ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনা হয়েছিল তাঁদের। ঘটনাটি ঘটে মেমারি-১ ব্লকের কাশিয়ারা মুক্তারবাগান এলাকাতে। মৃতদের নাম মোস্তাফিজুর রহমান (৬৫) ও মমতাজ পারভিন (৫৫)। বিকেলেই বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের ছেলেকে।