শেষ আপডেট: 8 January 2020 09:29
গণপরিবহণ হিসাবে এদেশে ট্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের চাহিদা এখন আর মেটাতে পারছে না রেল। বিভিন্ন ট্রেন মিলিয়ে গড়ে ১৫ শতাংশ যাত্রীকে ওয়েটিং লিস্টে থেকে যেতে হয়। রেল চাইছে এই ওয়েটিং লিস্ট প্রথা শেষ করতে। একই সঙ্গে পরিষেবা আরও ভাল করাও লক্ষ্য রেলের।
রেলের রিজার্ভ কামরায় যাত্রীর সংখ্যা ২০১৩-১৮ সালের মধ্যে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে যদিও একই সময়ে বিমানযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে তেরো শতাংশ। এইসব বিষয় মাথায় রেখেই বেসরকারি সংস্থাকে ট্রেন চালানোর ভার দিতে চাইছে ভারতীয় রেল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রুটগুলিকে সাতটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে এবং যে সব স্টেশন কম ব্যবহৃত হয় সেই সব স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নত করে দূরপাল্লার ট্রেনের উপযোগী করে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে যেমন মুম্বইয়ের কাছে পানভেল, দিল্লির কাছে ওখলা ও তিলক ব্রিজ।
প্রাথমিক ভাবে দিল্লি-মুম্বই ও দিল্লি-কলকাতা লাইনে কয়েকটি রুটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ মনে করছেন যে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সেই রুটগুলি খুলে দেওয়া যাবে কারণ ততদিনে ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন ফ্রেট করিডোর দুটি পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে।
প্রাইভেট ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। রেল জানিয়েছে এই গতির কথা মাথায় রেখে রেলের ট্র্যাকগুলির উন্নতি ঘটানো হবে।
প্রাথমিক ভাবে স্থির করা হয়েছে, কোনও একটি রুটে ভারতীয় রেলের দ্রুততম ট্রেন যে সময় নেয় সেই সময়টিকেই বেসরকারি ট্রেনের মাপকাঠি ধরা হবে। বেসরকারি রেলকে স্বস্তি দিতে ওই সব রুটে বেসরকারি ট্রেনের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিটের মধ্যে কোনও ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।
প্রাইভেট ট্রেনগুলিকে নিজেদের ভাড়া স্থির করার স্বাধীনতা দেওয়া হবে, কোথা থেকে কামরা নেবে, কোথা থেকে ইঞ্জিন নেবে তা তাদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। চুক্তি সই করার পাঁচ বছরের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সমস্ত ট্রেন চালানো শুরু করতে হবে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রথম ট্রেনটি চালানো শুরু করা যায় বরাত পাওয়ার ছ’মাসের মধ্যে।