
নিহত তরুণী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 February 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানাগড়ের দুর্ঘটনা (Panagarh Accident Case) রেষারেষির কারণে ঘটেছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছে পুলিশ (Police Press Conference)। তরুণীকে কটূক্তির যে অভিযোগ উঠেছে তা কার্যত নস্যাৎ করা হয়েছে পুলিশের তরফে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ এই দাবি মানতে নারাজ মৃত তরুণী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের (Sutandra Chatterjee) পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন, গোটা বিষয় খতিয়ে না দেখে পুলিশ এত তাড়াতাড়ি রেষারেষির ঘটনা বলে দিচ্ছে কী করে? বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন সুতন্দ্রার মাও।
সুতন্দ্রার গাড়ির চালক আগে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করছিল কয়েকজন মদ্যপ যুবক। তারাই গাড়িতে দুবার ধাক্কা মারে, 'ম্যাডাম'কে লক্ষ্য করে লাগাতার নোংরা অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তিও করে। কিন্তু পুলিশ স্পষ্ট বলছে, কটূক্তি করা বা ইউটিজিং-এর কোনও অভিযোগ তাঁদের কাছে নেই। মৃত তরুণীর গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির রেষারেষি হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এই ঘটনা। পুলিশের দাবি মানতে নারাজ সুতন্দ্রার মা। তাঁর কথায়, ''ইভটিজিং-ই হয়েছে। ওই চালক রেষারেষি করেন না। হাইওয়েতে কেন কোনও পুলিশ থাকবে না? ওদের গাড়ি ধরা পড়ল, আর অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি। পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।''
দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িকেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যুবকদের গাড়ি থেকে মদের গ্লাস পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার এলাকার রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতারি শূন্য। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ মৃত তরুণীর পরিবার। এক আত্মীয়র কথায়, যে গ্লাসগুলি পাওয়া গেছে তার পরীক্ষা এখনও হয়নি। এদিকে দুর্ঘটনার জায়গাটিকেও ঘিরে রাখা হয়নি। অথচ পুলিশ আগেভাগে বলে দিচ্ছে, এটি রেষারেষির ঘটনা।
সোমবারই সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি গাড়ির মধ্যে ক্রেটা গাড়ি আগে ছিল। তরুণীর গাড়ি পিছনে। ওঁরা জাতীয় সড়ক দিয়ে যেতে পারত। সরু গলিতে ঢোকার মুখে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এও বলেছে, অভিযোগকারীরা ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করেননি। গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ভুল খবর, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
গাড়ি নিয়ে গয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। পথেই ঘটে যায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা। চন্দননগরের নাড়ুয়া রায়পাড়ায় থাকতেন সুতন্দ্রা। ৯ মাস আগে তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মা-ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন তিনি। এই ঘটনায় শোকে পাথর হয়েছে তাঁর পরিবারও। তাঁরা শুধু এখন দোষীদের কড়া শাস্তি চাইছেন।