
শেষ আপডেট: 27 February 2019 18:30
ভারতীয় সেনাকে দেখেই রাগে ফুঁসতে শুরু করেন গ্রামের কমবয়সীরা, বললেন রেজ্জাক। প্যারাশুটের বাঁধন থেকে তখনও সবটা বার হতে পারেননি অভিনন্দন, তাঁর চোখে মুখে তখন শঙ্কা। সেটাকেই হাতিয়ার করে সেনা কম্যান্ডারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসতে থাকে পাথর। ক্ষতবিক্ষত হতে থাকেন অভিনন্দন। রেজ্জাকের কথায়, কয়েকজন লাথিও মারেন তাঁকে। সেই সঙ্গে স্লোগান ওঠে, 'পাকিস্তান যুগ যুগ জিও।'
"আমি বারণ করছিলাম কিন্তু ওরা শোনেনি। পাথর ছুঁড়ছিল, লাথি মারছিল, তারপর আমারই এক ভাইপো তাঁর পা লক্ষ্য করে গুলি চালাল," রেজ্জাক বললেন, "লোকটা বাঁচার জন্য আকাশের দিকে তাক করে একবার গুলি চালিয়েছিল, কিন্তু কোনও মানুষকে আঘাত করেনি," ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জানালেন গ্রামপ্রধান রেজ্জাক।
গ্রামবাসীদের রোষ থেকে বাঁচতে তারপর দৌড়নো শুরু করেছিলেন অভিনন্দন। তবে পারেননি। কিছুদূর গিয়েই একটি জলাশয়ে পড়ে যান। রেজ্জাক জানালেন, সেখান থেকে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে তুলে আনেন গ্রামবাসীরা। তাঁর কাছে যা যা অস্ত্র ছিল সব কেড়ে নেওয়া হয়। গ্রামপ্রধান বললেন, "সেনা কম্যান্ডারের কাছে যা যা নথিপত্র ছিল তার বেশিরভাগটাই তিনি মুখে পুড়ে গিলে ফেলেন। তবে কিছু কাগজ কেড়ে নিয়ে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছে গ্রামের লোকজন।"
ক্রমাগত মারধর, ভারত বিরোধী স্লোগানের মাঝেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পাক সেনারা। তারা অভিনন্দনের হাত পিছমোড়া করে বাঁধে, তাঁর চোখে ফেট্টি বেঁধে টেনে নিয়ে যায়। "আমি অনেকবার সবাইকে বারণ করেছিলাম যাতে ওনাকে মারধর, অত্যাচার না করা হয়, তবে কেউ কথা শোনেনি," সে দিনের ঘটনা এখনও ভুলতে পারছেন না রেজ্জাক, বললেন, "উনি সুস্থ ভাবে দেশে ফিরে যান, এটাই চাই।"