দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ড টিকার প্রভাব ভারতের স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে বেশ ইতিবাচক। এখনও অবধি টিকার কোনও খারাপ ফল দেখা যায়নি। অ্যাস্ট্রজেনেকার প্রতিষেধকে কী ধরনের সমস্যা হয়েছে সে নিয়ে মুখ না খুললেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট আশ্বস্ত করেছে ভয়ের কোনও কারণ নেই। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষণে রেখে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই দেখা যায়নি।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও তাদের ভ্যাকসিন রিসার্চ ইউনিট জেন্নার ইনস্টিটিউটের তৈরি ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিনের ChAdOx1 nCoV-19 ফর্মুলায় টিকা তৈরি করেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। অ্যাস্ট্রজেনেকা সম্প্রতি জানিয়েছে, টিকার ডোজে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে সমস্যা দেখা গিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকজন। টিকার ডোজে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যাচ্ছে নাকি কোনও রোগ হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের সেটা এখনও খোলসা করেনি অ্যাস্ট্রজেনেকা। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটিকে গোটা ব্যাপারটাই খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আপাতত টিকার ট্রায়াল বন্ধ রাখা হয়েছে।
https://twitter.com/SerumInstIndia/status/1303637554344816640
করোনার টিকায় অক্সফোর্ডের উপর বেশি ভরসা জেগেছে এতদিনে। কারণ প্রথমত, নিয়ম মেনে তিন পর্যায়ের ট্রায়াল করেছে অক্সফোর্ড, দ্বিতীয় তাদের টিকায় মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে ও টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে বলে বিস্তারিত খবর সামনে এনেছে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল হচ্ছে বিশ্বজুড়েই। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাস্ট্রজেনেকার খবরে মাথায় হাত পড়ে গেছে অনেকেরই। এদিকে ভারতেও অক্সফোর্ডের টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে বহু মানুষকে। তাই চিন্তার কারণও বেশি।
সেরাম সিইও আদর পুনাওয়ালা নিজে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ১০০ জনকে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনও অবধি কোনও খারাপ প্রভাব দেখা যায়নি। আগামী দিনেও কোভিশিল্ড টিকা ঝুঁকির কারণ হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আদর বলেছেন, অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় কিছু সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে আশা করা যাচ্ছে গোটা বিষয়টা অনুসন্ধান করে তারা শিগগিরই টিকার ট্রায়াল শুরু করে দেবে।
দুই পর্বে মোট ১৬০০ জনকে টিকা দিচ্ছে সেরাম। , ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর অবধি স্বেচ্ছাসেবকদের টিকার ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট ও অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়েছে। কোনও ক্রনিক রোগ থাকলে টিকার ডোজ দেওয়া যাবে না। তাই বহুবার শারীরিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন ডাক্তাররা। গর্ভবতী মহিলারা এই ট্রায়ালে অংশ নিতে পারবেন না। তাছাড়া, হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কিডনি ফেলিওর বা অন্য কোনও জটিল রোগ থাকলেও টিকার ট্রায়ালে অংশ নেওয়া যাবে না।
সেরাম জানিয়েছে, দেশের মোট ১৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে টিকার ট্রায়াল হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ (এইমস), পুণে বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুর-এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ।