
শেষ আপডেট: 9 December 2018 18:30
রফিকুল জামাদার
মঙ্গলবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ভোটের ফলাফল এসপার ওসপার যাই হোক, উনিশের নির্বাচনের আগে দেশ জুড়ে মোদী-বিরোধিতার বাতাবরণ মজবুত করতে সোমবার থেকেই গা ঘামাতে নেমে পড়লেন রাহুল-মমতা সহ ২০টি ছোটবড় আঞ্চলিক দলের নেতা নেত্রীরা। পূর্ব ঘোষণা মতো এ দিন সংসদ ভবনে বৈঠক করেন এই বিরোধী দলগুলি। তার পর প্রায় সমস্বরে জানিয়ে দেন, সিবিআই, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-সহ দেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা খর্ব করে যে ভাবে ইমার্জেন্সি তৈরি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন তাঁরা। সংসদেও সমষ্টিগত ভাবে সরকারকে চেপে ধরা হবে। এ দিনের বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি ছিল উত্তরপ্রদেশের যুযুধান দুই আঞ্চলিক নেতা ও নেত্রী অখিলেশ যাদব ও মায়াবতীর। তবে তাতে যে বৈঠকে কোনও ছন্দের অভাব হয়েছে তাও নয়। বরং প্রথমে সনিয়া গান্ধীর উপস্থিতিতে বিশটি আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীর মধ্যে আলোচনা ও পরে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের মধ্যে নিজস্ব গতিশীলতা ছিল। এর আগে বৈঠকের অ্যাজেন্ডা স্থির করতে সোমবার সকাল থেকে কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন চন্দ্রবাবু নায়ডু, কখনও বা তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে চলে আসেন কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেল বা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আবার অন্ধ্রভবনে গিয়ে চন্দ্রবাবুর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন আহমেদ পটেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিকেলে তাঁরা যখন বৈঠকে বসেন, ঠিক সেই সময়েই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদ থেকে ইস্তফা দেন উর্জিত পটেল। ফলে গোটা বৈঠকের অভিমুখ সে দিকেই ঘুরে যায়। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম কে স্ট্যালিন, চন্দ্রবাবু নায়ডুরা মূলত সে ব্যাপারে সমালোচনার জ্বালামুখ খুলে দেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকী এ-ও জানান, সরকার যে অর্থনৈতিক ইমার্জেন্সি কায়েম করতে চলেছে তার বিরুদ্ধে তাঁরা জোটবদ্ধ হয়েছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে প্রতিবাদ জানাবেন। কেন্দ্রে মোদী সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদ থেকে দুজন ইস্তফা দিলেন। প্রথমে রঘুরাম রাজন। এখন উর্জিত পটেল। সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যমও ইস্তফা দিয়ে ইদানীং নোটবন্দির বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন। তাতে মোদী সরকার অস্বস্তিতে পড়েছে সন্দেহ নেই। মমতা-রাহুল সেই ক্ষতটা খুঁচিয়েই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে চাইছেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দিনের বৈঠককে শুধু সেই ক্ষুদ্র ছবিতেই বেঁধে রাখলে সঠিক বিশ্লেষণ হবে না। সোমবার বিরোধী দলগুলির বৈঠকের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় বৃহত্তর। মঙ্গলবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল যাই হোক, বিরোধীরা দলগুলি বুঝতে পারছে উনিশের ভোটের আগে মোদী-অমিত শাহরা প্রবল আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবেন। কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলের নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের জন্য তখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, আয়কর বিভাগের মতো এজেন্সিগুলি। যার ইঙ্গিত মোদী-শাহরা এ দিন কথায়বার্তায় দিতে শুরু করেছেন। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরোধ না গড়ে তুলতে পারলে সকলেরই বিপদ অনিবার্য। দ্বিতীয়ত, সিবিআইয়ে গৃহযুদ্ধ, সরকারের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংঘাত, কৃষকদের অসন্তোষ, কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সমষ্টিগত ভাবে সরকার বিরোধিতা প্রয়োজন। নইলে মোদী বিরোধিতার পরিবেশ মজবুত করা সম্ভব নয়। এর মানে এই নয় যে রাজ্যস্তরে এঁরা পরস্পরের সঙ্গে জোট করবেন। কিন্তু সংসদে বা জাতীয় মঞ্চে তাঁরা এমন সমন্বয় করে চলতে চাইছেন যাতে মোকাবিলা করতে গিয়ে বিজেপি-ও হিমসিম খায়। বস্তুত সেই বৃহত্তর প্রস্তুতির গা ঘামানো পর্ব শুরু হল সোমবার। পাঁচ রাজ্যের ভোট ফলাফল বিজেপি-র অনুকূলে না গেলে তা মঙ্গলবার থেকে আরও তীব্র হবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।