দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে মুম্বই পুলিশ রিপাবলিক টিভির অ্যাঙ্কর অর্ণব গোস্বামী ও ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রেটিং এজেন্সি (বার্ক)-এর প্রাক্তন সিইও পার্থ দাশগুপ্তের হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ চালাচালির ট্রান্সক্রিপশন আদালতে পেশ করে। অর্ণব গোস্বামীর রিপাবলিক টিভি ও আরও দু'টি চ্যানেলের বিরুদ্ধে টিআরপি-র হিসাবে কারচুপির অভিযোগ ছিল। ওই মামলায় পুলিশ আদালতে যে চার্জশিট জমা দেয়, তার অংশ হিসাবেই হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ চালাচালির ট্রান্সক্রিপশন পেশ করা হয়েছে। তা দেখে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা ও বালাকোটে বিমান হানা সম্পর্কে যে মেসেজ দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করা উচিত।
হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটে অর্ণব গোস্বামী বালাকোট হামলার তিন দিন আগে লিখেছিলেন, 'বড় কিছু ঘটতে চলেছে'। পরে তিনি বলেন, 'সরকার নিশ্চিত যে, এত বড় হামলা হবে যে, মানুষ আনন্দ পাবে'। পার্থ দাশগুপ্ত জানতে চান, দাউদকে কি ধরে আনা হবে? অর্ণব গোস্বামী জবাবে লেখেন, 'না স্যার। পাকিস্তান। বড় কিছু একটা করা হবে।'
২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দু'জনের মধ্যে হোয়াটস অ্যাপে এই কথোপকথন হয়েছিল। তার তিনদিন বাদে বালাকোটে বিমান হানা দেয় ভারত। বিরোধীদের বক্তব্য, অর্ণব গোস্বামী আগেই সেনাবাহিনীর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছিলেন। তার মানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের দাবি, যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়ে তথ্য ফাঁস নিয়ে তদন্ত করতে হবে।
কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম টুইট করে বলেন, "এক সাংবাদিক ও তাঁর বন্ধু কি বালাকোটে বিমান হানার তিন দিন আগে গোপন পরিকল্পনার কথা জেনে ফেলেছিলেন? যদি তা হয়, তা হলে যে সোর্স থেকে তিনি জেনেছিলেন, সে আর কাউকে যে খবর দেয়নি তার গ্যারান্টি কি? সে তো পাকিস্তানের চরদেরও আগেভাগে জানিয়ে দিয়ে থাকতে পারে।"
https://twitter.com/PChidambaram_IN/status/1350676076293312515
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, এক্ষেত্রে সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। সরকার অর্ণব গোস্বামীর কাছে আগেই ৩৭০ ধারা বিলোপ ও বিমান হানার গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিল।
নিউজ ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কড়া বিবৃতি দিয়ে বলেছে, "এই মেসেজগুলি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, দু'জন ষড়যন্ত্র করে রিপাবলিক টিভির দর্শক বেশি করে দেখাত। এইভাবে তারা অনেক বে আইনি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে।" অর্ণব গোস্বামী পালটা বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে তাঁকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। বার্কের ওপরে চাপ দেওয়া হচ্ছে যাতে রিপাবলিক টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।