দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও রেশন কার্ড হোল্ডার তিনি যে কোনও রাজ্যেই যান না কেন, ওই একটি রেশন কার্ড দিয়েই খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন যে কোনও রাজ্য থেকেই। পরিযায়ী শ্রমিকরা এর ফলে উপকৃত হবেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এখন থেকে ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা চালু হওযার কথা জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা ঘোষণা করেন তিনি। দাবি করেন, ২৩ রাজ্যের ৬৩ কোটি মানুষ এর ফলে উপকৃত হবেন।
দু'দিন আগেই 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর কথা বলে ২০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই প্যাকেজের রূপরেখা কী হবে, কত টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে, কোন ক্ষেত্রের মানুষ কতটা সুবিধা পাবেন-- সেই দিকে তাকিয়ে কার্যত গোটা দেশ। গত কাল অর্থাৎ বুধবার বিকেলেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রাথমিক ভাবে। আজ, বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর দ্বিতীয় দফার আলোচনা ও সাংবাদিক বৈঠক।
প্রথম দিনের বৈঠকে নির্মলা সীতারমন দেশের অর্থনীতিকে চাগিয়ে তুলতে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেও, নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের উপকার কী হল-- এই প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছিল। অনেকে অভিযোগও করেছিলেন, গরিব মানুষের জন্য কিছুই নেই এই প্যাকেজে। কারণ সাধারণের কর্মসংস্থান, অর্থের জোগান বা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছুই ঘোষণা হয়নি গতকাল। কিন্তু আজ সে খামতি পুষিয়ে দিলেন নির্মলা। এ দিনের বৈঠকে তিনি গরিবদের জন্য কার্যত কল্পতরু হয়ে ওঠেন।
এদিন পরিযায়ী শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র চাষি ও সাধারণের কর্মসংস্থানের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ ঘোষণা করেন নির্মলা। প্রথমেই জানিয়ে দেন, আজ যে ৯টি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে তার মধ্যে তিনটি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে, একটি আদিবাসীদের কর্মসংস্থান নিয়ে, দু’টি পদক্ষেপ কৃষকদের নিয়ে, একটি স্ট্রিট ভেন্ডার ও দু’টি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে।
তিনি জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকা ও দিনে তিনবার খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড ব্যবহার করে পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্যগুলিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের বিনা মূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে এই সরকারি প্রকল্পে। যাদের খাদ্য সুরক্ষা কার্ড নেই, বা রাজ্যের রেশন কার্ড নেই, তাঁদের মাথা পিছু মাসে ৫ কেজি করে চাল বা গম আগামী ২ মাস ধরে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পরিবার পিছু মাসে ১ কেজি করে ডাল দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করবে। তারাই পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহ করবে।
শুধু তাই নয়, নির্মলা বলেন, ‘‘কার্ড না থাকলেও পরিযায়ী শ্রমিকরা আগামী দু’মাস বিনা পয়সায় খাদ্যসামগ্রী পাবেন।’’ অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘রেশন কার্ড ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে রাজ্য রাজ্যে। সেই কাজ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই শেষ হবে। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ নামে এই প্রকল্পে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে রেশন তুলতে পারবেন উপভোক্তারা। ফলে রাজ্যের বাইরে নিজের রেশন কার্ড নিয়ে গেলেও খাবারের নিরাপত্তা থাকবে অভিবাসী মানুষগুলির।