
শেষ আপডেট: 21 October 2020 18:30
রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা বলছে, পাঁচ বছরের নিচে ২০ শতাংশ শিশু অনাহার ও অপুষ্টির শিকার। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের গ্লোবাল পভার্টি অ্যান্ড ইকুইটি গ্রুপের ডিরেক্টর ক্যারোলিনা বলেছেন, করোনা মহামারীর গ্রাসে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি শিশু চরম খাদ্যাভাবের মুখোমুখি হতে চলেছে। কুড়ি সালের শেষে আরও ১৩ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বেন। পৃথিবীর একটা বড় অংশ অনাহারের শিকার হতে পারে।
ভারতের ছবিটা কেমন
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (হাঙ্গার ইডেক্স) ভারত পিছিয়ে যেতে যেতে আপাতত ১০২ নম্বর স্থানে। ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস চিলড্রেন, ২০১৯’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভারতের প্রতি হাজারটি শিশুর মধ্যে ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয় অপুষ্টি-সহ নানা কারণে। দেশের মাত্র ২১ শতাংশ শিশুর খাদ্যতালিকায় বিবিধ এবং সুষম আহারের যথাযথ সমন্বয় মেলে। অর্থাৎ ৭৯ শতাংশ শিশু থেকে যায় এর বাইরে। পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশুই নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাইপার টেনশন, সুগার, কিডনির অসুখ জাঁকিয়ে বসছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে।
২০০৫-০৬ সালে দেশের ৫ বছরের কমবয়সী শিশুর ৭০ শতাংশ ছিল অপুষ্টিজনিত রোগের শিকার। ২০১৫-১৬ সালে দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই হার ৩৮-৭৮ শতাংশের মধ্যে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষাও বলছে, দেশে পাঁচ বছরের নীচে থাকা প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিশু রক্তাল্পতায় ভোগে। বয়সের তুলনায় ওজন কম সাড়ে চার কোটি শিশুর। যার মূল কারণ অপুষ্টি। হিমোগ্লোবিনের অভাবে এই শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে সহজে। রোগের শিকার হয়। অপুষ্টির কারণে এদের মস্তিষ্কেরও পূর্ণ বিকাশ ঘটে না।
ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। শিশু জন্মের হারে ১৩০ কোটির ভারত বছরের প্রথম দিনটিতে চিনকেও টপকে যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্য, অনাহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর রিপোর্ট বলছে, বিশ্ব জুড়ে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ৬১ কোটি মহিলা রক্তাল্পতায় ভোগেন। আর আমাদের দেশের নিরিখে তা প্রায় ৫১ শতাংশ। ২০১৭ সালের ‘গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ১৪০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান সবার নীচে। প্রজননক্ষম মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতায় আক্রান্তদের সংখ্যা অত্যধিক। প্রত্যন্ত এলাকাগুলো শুধু নয়, শহর থেকে শহরতলি--অনেক মহিলাই গর্ভবতী অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা এবং পরিচর্যা পাননা। যার প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ ও নবজাতকের উপর। আমাদের দেশে প্রসূতি মৃত্যুর শতকরা কুড়ি ভাগ ঘটে রক্তাল্পতার কারণে।