Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

করোনার গ্রাস! বিশ্বের ৩৫ কোটি শিশু চরম দারিদ্রের শিকার, বাড়ছে অনাহার, অপুষ্টি: রাষ্ট্রপুঞ্জ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বে প্রতি ছ’জন শিশুর মধ্যে একজন চরম দারিদ্রের শিকার। অনাহার, অপুষ্টিতে ধুঁকছে গ্রামের পর গ্রাম। বিশদে বলতে গেলে, বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুর দারিদ্রের চরম সীমায় রয়েছে। করোনা অতিমহামারীর দাপটে বিশ্বজুড়েই অর্থনীতি

করোনার গ্রাস! বিশ্বের ৩৫ কোটি শিশু চরম দারিদ্রের শিকার, বাড়ছে অনাহার, অপুষ্টি: রাষ্ট্রপুঞ্জ

শেষ আপডেট: 21 October 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বে প্রতি ছ’জন শিশুর মধ্যে একজন চরম দারিদ্রের শিকার। অনাহার, অপুষ্টিতে ধুঁকছে গ্রামের পর গ্রাম। বিশদে বলতে গেলে, বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুর দারিদ্রের চরম সীমায় রয়েছে। করোনা অতিমহামারীর দাপটে বিশ্বজুড়েই অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। ফলে অভাবী পরিবারগুলো প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গ্রুপ এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের চিলড্রেন’স ফান্ড বা ইউনিসেফের নতুন সমীক্ষা এই ভয়ঙ্কর রিপোর্ট সামনে এনেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট আগেই বলেছিল, করোনা পরবর্তী পৃথিবী এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবে।  দেখা যাবে চরম খাদ্যাভাব।  ঘরে ঘরে একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার শুরু হবে। গত বছরেই খাদ্য সঙ্কটে ভোগা দেশগুলির তালিকা সামনে এনেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জে, যাদের মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সুদান, সিরিয়া, নাইজেরিয়া, কঙ্গোর মতো দেশ। সম্প্রতি ‘গ্লোবাল এস্টিমেট অব চিলড্রেন ইন মানিটারি পভার্টি: অ্যান আপডেট’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় ইতিমধ্যেই খাদ্য সঙ্কট তীব্র রয়েছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর পরিবারে মাথাপিছু আয় ১.৯০ ডলারেরও (ভারতীয় টাকায় ১৪০ টাকার মতো) কম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়ে দিন কাটাচ্ছে। 1 in 5 Children Live in Extreme Poverty: World Bank Report ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বিশ্বে চরম দারিদ্রসীমায় থাকা শিশুদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ শিশুর আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারী ও লকডাউনের কারণে রোজগার প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। বেশিরভাগ পরিবারই কাজ খুইয়েছে। যার ফলে দারিদ্র তার ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে। ইউনিসেফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গ্রুপ সতর্ক করেছে, করোনা মহামারী থেমে গেলেও, এই সঙ্কট এখনই কাটবে না। বরং অভাবী পরিবারগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে। বিশ্বজুড়েই তীব্র হবে খাদ্য সঙ্কট। যার কারণে অনাহার ও অপুষ্টির শিকার হবে আরও শিশু। ইউনিসেফের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেছেন, বিশ্বে প্রতি ৬ জন শিশুর মধ্যে একজন দারিদ্রপীড়িত। যার মানে হল মোট সংখ্যা চমকে দেওয়ার মতো। প্রায় সব দেশের সরকারই ‘চাইল্ড রিকভারি প্ল্যান’ তৈরি করছে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 120 million children in South Asia could slip into poverty due to pandemic:  UNICEF report রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা বলছে, পাঁচ বছরের নিচে ২০ শতাংশ শিশু অনাহার ও অপুষ্টির শিকার। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের গ্লোবাল পভার্টি অ্যান্ড ইকুইটি গ্রুপের ডিরেক্টর ক্যারোলিনা বলেছেন, করোনা মহামারীর গ্রাসে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি শিশু চরম খাদ্যাভাবের মুখোমুখি হতে চলেছে। কুড়ি সালের শেষে আরও ১৩ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বেন। পৃথিবীর একটা বড় অংশ অনাহারের শিকার হতে পারে। ভারতের ছবিটা কেমন বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (হাঙ্গার ইডেক্স) ভারত পিছিয়ে যেতে যেতে আপাতত ১০২ নম্বর স্থানে। ‘দ‌্য স্টেট অব দ‌্য ওয়ার্ল্ডস চিলড্রেন, ২০১৯’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভারতের প্রতি হাজারটি শিশুর মধ্যে ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয় অপুষ্টি-সহ নানা কারণে। দেশের মাত্র ২১ শতাংশ শিশুর খাদ‌্যতালিকায় বিবিধ এবং সুষম আহারের যথাযথ সমন্বয় মেলে। অর্থাৎ ৭৯ শতাংশ শিশু থেকে যায় এর বাইরে। পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশুই নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাইপার টেনশন, সুগার, কিডনির অসুখ জাঁকিয়ে বসছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে। ২০০৫-০৬ সালে দেশের ৫ বছরের কমবয়সী শিশুর ৭০ শতাংশ ছিল অপুষ্টিজনিত রোগের শিকার। ২০১৫-১৬ সালে দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই হার ৩৮-৭৮ শতাংশের মধ্যে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষাও বলছে, দেশে পাঁচ বছরের নীচে থাকা প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিশু রক্তাল্পতায় ভোগে। বয়সের তুলনায় ওজন কম সাড়ে চার কোটি শিশুর। যার মূল কারণ অপুষ্টি। হিমোগ্লোবিনের অভাবে এই শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে সহজে। রোগের শিকার হয়। অপুষ্টির কারণে এদের মস্তিষ্কেরও পূর্ণ বিকাশ ঘটে না। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। শিশু জন্মের হারে ১৩০ কোটির ভারত বছরের প্রথম দিনটিতে চিনকেও টপকে যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্য, অনাহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর রিপোর্ট বলছে, বিশ্ব জুড়ে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ৬১ কোটি মহিলা রক্তাল্পতায় ভোগেন। আর আমাদের দেশের নিরিখে তা প্রায় ৫১ শতাংশ। ২০১৭ সালের ‘গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ১৪০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান সবার নীচে। প্রজননক্ষম মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতায় আক্রান্তদের সংখ্যা অত্যধিক। প্রত্যন্ত এলাকাগুলো শুধু নয়, শহর থেকে শহরতলি--অনেক মহিলাই গর্ভবতী অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা এবং পরিচর্যা পাননা। যার প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ ও নবজাতকের উপর। আমাদের দেশে প্রসূতি মৃত্যুর শতকরা কুড়ি ভাগ ঘটে রক্তাল্পতার কারণে।

```