একই অভিজ্ঞতা হয় বাঁকুড়া পুরসভার উপপ্রধান হীরালাল চট্টরাজের। তিনিও প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও অল্পক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন এই ভুয়ো ফোন কল আসলে প্রতারণার ফাঁদ। বিষয়টি বোধগম্য হতেই ফোন কেটে দেন। পরে তাঁরা প্রত্যেকেই পৃথক ভাবে বাঁকুড়া সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ জানান।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: একের পর এক কাউন্সিলারের কাছে আসছে উড়ো ফোন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্য়ক্তি কখনও নিজেকে দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চের (Delhi Crime Branch) আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কখনও আবার গম্ভীর গলায় পরিচয় দিচ্ছেন বিধাননগরে থাকা একটি তদন্তকারী সংস্থার অফিসের আধিকারিক হিসেবে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের (Delhi Blast) তদন্তে উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডগুলি (SIM Card) সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলারদের নামে নথিভূক্ত রয়েছে। উড়ো ফোন এসেছে বাঁকুড়ার উপ পুরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজের কাছেও। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে বাঁকুড়া পুরসভার (Bankura Municipality) অন্দরে। ঘটনায় উদ্বিগ্ন উপ পুরপ্রধান সহ কাউন্সিলাররা সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। ফোন নম্বর দিয়ে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশের লাগাতার প্রচার ও বিভিন্ন সচেতনতা মূলক উদ্যোগের পরেও সাইবার প্রতারকদের কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রতারকেরা নিত্য নতুন উপায় প্রয়োগ করে দিনের পর দিন হাতিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কষ্টে জমানো টাকা। এবার সেই সাইবার প্রতারকদের নিশানায় বাঁকুড়া পুরসভার উপ পুরপ্রধান সহ একের পর এক কাউন্সিলার।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বাঁকুড়া পুরসভার উপপুরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ঝিলিক দত্ত, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মমতা বাগদি, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ইতু দাস ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিলীপ আগরওয়ালের মোবাইলে বিভিন্ন অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন রিসিভ করতেই প্রতারকরা কখনও নিজেদের দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চ আবার কখনও বিধাননগরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসের আধিকারিক পরিচয় দেয়।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল বলেন,"আমি কাউন্সিলর নানা দরকারে মানুষ ফোন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফোন বাজতেই আমি ধরি। তখন ফোনের অপর প্রান্তে একজন আমাতে রীতিমতো কড়া গলায় বলে দিল্লি বিস্ফোরণের পর কাশ্মীরে ধৃত একজনের কাছে বেশ কিছু সিমকার্ড পাওয়া গেছে। তারমধ্যে একটি কার্ড আমার নামে নথিভূক্ত। প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে আমি বলে সেই সিমের ছবি তুলে পাঠাতে। আমিও যখন কড়া গলায় কথা বলি তখন ফোন ছেড়ে দেয়। পরে শুনলাম আরও অনেক কাউন্সিলরের কাছেই এমন হুমকি ফোন এসেছে।"
একই অভিজ্ঞতা হয় বাঁকুড়া পুরসভার উপপ্রধান হীরালাল চট্টরাজের। তিনিও প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও অল্পক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন এই ভুয়ো ফোন কল আসলে প্রতারণার ফাঁদ। বিষয়টি বোধগম্য হতেই ফোন কেটে দেন। পরে তাঁরা প্রত্যেকেই পৃথক ভাবে বাঁকুড়া সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ জানান।