যদিও এ ব্যাপারে পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, আটক বাস এখনও ছাড়া হয়নি।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারাপীঠে (Tarapith) পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই থমকে গেল যাত্রাপথ। মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ল বাস (Bus)। বাসভর্তি তীর্থযাত্রী (Pilgrims), সঙ্গে শিশু, মহিলা—সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন যাত্রী। অভিযোগ, পারমিট ‘জাল’। মল্লারপুরে আটক করা হল গোটা বাসটিকে। ঘটনার জেরে দিনভর রোদের তাপে পুড়তে পুড়তে রাস্তার ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হল যাত্রীদের। শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁরা অবরোধ করেন ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বীরভূমের মল্লারপুর থানা এলাকায়। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর থেকে রিজার্ভ একটি বেসরকারি বাসে চেপে তারাপীঠে এসেছিলেন একদল কাওয়ারিয়া তীর্থযাত্রী। সেখান থেকে দেওঘর যাওয়ার পথে, মল্লারপুরের কাছে তাঁদের বাসটি আটকে দেয় পরিবহণ দফতরের একটি টিম। অভিযোগ, বাসের কাগজপত্র ঠিক নেই।
বাসচালক পারমিট দেখালেও, দফতরের আধিকারিকদের দাবি, সেটি জাল। অভিযোগ, জরিমানা হিসেবে দাবি করা হয় প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। যতক্ষণ না জরিমানার টাকা মেটানো হচ্ছে, ততক্ষণ বাস ছাড়া হবে না, জানিয়ে দেওয়া হয় দফতরের তরফে।
এভাবে মাঝ রাস্তায় বাস আটকে যাওয়ার জেরে শিশুদের কাঁদতে দেখা যায়, মহিলারা ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েন রাস্তার ধারে। খাবার তো দূরের কথা, এক ঘোঁটাও জল নেই। কেউ কেউ দোকান থেকে জল কিনে আনেন, কেউ খাবারের খোঁজে ছুটে যান।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে হাজির হন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। অবশেষে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে যাত্রীরা। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। শুরু হয় স্লোগান, ধর্না-বিক্ষোভ। যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় প্রায় এক ঘণ্টা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মল্লারপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। যাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা চলে। কিন্তু অবরোধ না উঠতেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে যাত্রীদের সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে এমন ‘অমানবিক’ আচরণ কীভাবে করল প্রশাসন? বিজেপির অভিযোগ, ‘‘এ রাজ্যে ভিনরাজ্যের মানুষ এলেই যেন টার্গেট করা হয়। কোনও প্রমাণ ছাড়াই এতজন তীর্থযাত্রীকে রাস্তায় ফেলে রাখাটা চরম অমানবিক।’’
যদিও এ ব্যাপারে পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, আটক বাস এখনও ছাড়া হয়নি।
রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। এ বিষয়ে মুখ খোলেননি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। তবে সূত্রের খবর, পরিবহণ দফতরের কাছ থেকে গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন জেলাশাসক।