দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাস্টিকে জড়ানো ছিন্নভিন্ন দেহ। ছিঁড়েখুঁড়ে গেছে যৌনাঙ্গ। ছোট্ট শরীরে মাথাটাই নেই। নিজের তিন বছরের মেয়ের দেহ সনাক্ত করতে গিয়ে বারে বারেই জ্ঞান হারাচ্ছেন পুরুলিয়ার বাসিন্দা ২৬ বছরের যুবতী। আঙুল তুলেছেন প্রেমিকের দিকেই। যার হাত ধরে গত সপ্তাহে জামশেদপুরের টাটানগর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুকন্যা ধর্ষণে অভিযুক্ত তিন জনের মধ্যে একজন ওই মহিলার প্রেমিক। তাকে আটক করে জেরা করা চলছে। বাকি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টাটানগর রেল স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল অভিযুক্ত রিঙ্কু সাহুকে সনাক্ত করা গেছে। তার সঙ্গেই ছিল কৈলাশ নামে আরও এক যুবক। শিশুটির মায়ের দাবি, তার প্রেমিক মহম্মদ শেখ ওরফে মনু মণ্ডলও ছিল এই চক্রান্তের মধ্যেই। তিন জনেরই বয়স ত্রিশের কোঠায়। এর মধ্যে রিঙ্কুর বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ ও ধর্ষণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার মা পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। ২০১৫ সালে এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করার চেষ্টায় রিঙ্কুর চার বছরের জেল হয়। দিন কয়েক আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে সে। অপর অভিযুক্ত কৈলাশের বাবা সেনা জওয়ান। জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত।
রেল পুলিশের ডেপুটি সুপার নূর মুস্তাফা জানিয়েছেন, তিন বছরের মেয়ে এবং প্রেমিক মনু মণ্ডলের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মেই শুয়েছিলেন যুবতী। শিশুটিকে তার মায়ের পাশ থেকে কোলে করে তুলে আনে রিঙ্কু। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে এমনটাই। স্টেশন লাগোয়া ঝোপের ধারে অপেক্ষা করছিল কৈলাশ। দু’জনে মিলে শিশুটির উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
https://twitter.com/ndtv/status/1156842181065367554
পুলিশের দাবি, ধর্ষণের সময় শিশুটির কান্না বন্ধ করার জন্য গলা টিপে তাকে খুন করা হয়। মৃতদেহের উপরই নির্যাতন চলে আরও ঘণ্টা খানেক। এর পর ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে একরত্তি শরীরটাকে। মাথা কেটে ফেলে দেহের বাকি অংশ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে ফেলে রাখে ঝোপঝাড়ের মধ্যেই। ঘটনার সময় মনু মণ্ডল কোথায় ছিল সেটা জানা যায়নি। যদিও তার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সে কোনও ভাবেই জড়িত নয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রিঙ্কু তিন সন্তানের বাবা। এর পরেও তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জেরায় তার দাবি, ‘‘আমি বাচ্চাটাকে কোলে নিয়েছিলাম মাত্র। ভুল করেই কিছুদূর হাঁটি, তারপর মাটিতে পড়ে যাই। এর পর ভয় পেয়ে পালিয়ে যাই। আর কিছু জানি না।’’
পুরুলিয়ার গ্রাম থেকে গত বৃহস্পতিবার মনু মণ্ডলের হাত ধরে জামশেদপুরে পালিয়ে আসেন ওই যুবতী। মনু সাহেবগঞ্জের নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা। যুবতী জানিয়েছেন, স্বামীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা ছিল না। কাঠের মিস্ত্রি মনুর সঙ্গে তাঁর প্রেম কয়েক বছরের। গ্রাম ছেড়ে পালানোর সময় মেয়েকে সঙ্গে নিতে বারণ করেছিল মনু। তবে যুবতী রাজি হননি। সেই আক্রোশ থেকেই মনু এই ধর্ষণ ও খুনের ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁর।
রেল পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শিশুটির মাথার খোঁজ এখনও মেলেনি। স্নিফার ডগ নামিয়ে খোঁজ চলছে। উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের ফয়সালা হয়নি। এর মধ্যেই এক তিন বছরের শিশু কন্যার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ফের প্রশ্নের মুখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।